বাংলাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক জায়গায় একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—বাঁধাকপি খেলে নাকি শরীরে কৃমি হয়, এমনকি মস্তিষ্কেও বাসা বাঁধতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সঠিকভাবে পরিষ্কার করে খেলে বাঁধাকপি সাধারণত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর সবজি।

বাঁধাকপির পুষ্টিগুণ
বাঁধাকপিতে সালফারভিত্তিক যৌগ থাকে, যা শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এতে প্রচুর ফাইবারও রয়েছে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য ভালো এবং হজমশক্তি ঠিক রাখতে সহায়তা করে।তাই পুষ্টিবিদদের মতে, এটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের জন্য উপকারই বেশি।
মস্তিষ্কে কৃমির ভয় কেন ছড়িয়েছে
অনেক সময় বাঁধাকপির পাতায় ছোট সবুজ শুঁয়োপোকা দেখা যায়। এই দৃশ্য থেকেই অনেকের মনে ধারণা তৈরি হয়েছে যে বাঁধাকপি খেলে শরীরে কৃমি ঢুকে যেতে পারে।আসলে মস্তিষ্কে কৃমির সংক্রমণ বা নিউরোসিস্টিসারকোসিস সাধারণত একটি বিশেষ ধরনের ফিতাকৃমির ডিম থেকে হয়। এই ডিম মানুষের মলমূত্রের সংস্পর্শে এলে খাবার বা জল দূষিত করতে পারে।

সমস্যার মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা সবজিতে বিভিন্ন পরজীবীর দূষণ বেশি হতে পারে। যেহেতু বাঁধাকপি মাটির কাছাকাছি জন্মায়, তাই দূষিত জল বা মাটির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।তবে এই ঝুঁকি শুধু বাঁধাকপির নয়—লেটুস, পালং শাক, ধনেপাতা বা অন্যান্য পাতাযুক্ত সবজির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হতে পারে।
কাঁচা বাঁধাকপি খাওয়া কি নিরাপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বাঁধাকপি বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। অনেক ক্ষেত্রে এটি রান্না করা বাঁধাকপির চেয়েও বেশি পুষ্টিকর, কারণ এতে ভিটামিন সি-এর মতো তাপসংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে।তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এতে থাকা ফাইবারের কারণে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।

বাঁধাকপি খাওয়ার আগে কীভাবে পরিষ্কার করবেন
বাঁধাকপি খাওয়ার আগে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি—
প্রথমে বাইরের পাতাগুলো ফেলে দিন
প্রবাহমান জলে ভালো করে ধুয়ে নিন
চাইলে লবণ জল বা ভিনিগার মিশ্রিত জলে ধুয়ে নিতে পারেন
রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
এভাবে পরিষ্কার করলে দূষণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

অনেকের ধারণা বাঁধাকপি খেলে শরীরে ফিতাকৃমি বা মস্তিষ্কে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই ভয় পুরোপুরি সঠিক নয়। মূল সমস্যা সবজির পরিচ্ছন্নতা ও দূষণের সঙ্গে জড়িত।













