ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই মানেই শুধু কেমোথেরাপি বা অস্ত্রোপচার নয়—তার সঙ্গে আসে একাধিক নীরব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তার মধ্যেই অন্যতম হল কোষ্ঠকাঠিন্য। মুম্বই এইমস-এর ক্যানসার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সুপ্রিয়া বম্বরকর জানাচ্ছেন, ক্যানসার রোগীদের একটি বড় অংশ এই সমস্যায় ভুগলেও অনেকেই এটিকে গুরুত্ব দেন না, যা পরে গুরুতর আকার নিতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য আসলে কী? লক্ষণগুলো জেনে নিন
কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে বোঝায়—
সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ
মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ
পেট পুরো খালি না হওয়ার অনুভূতি
পেট ফাঁপা, গ্যাস, ক্ষুধামন্দা
অনেক ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও অস্বস্তিও দেখা যায়।
ক্যানসার রোগীদের মধ্যে কেন বেশি দেখা যায় এই সমস্যা?
ডা. সুপ্রিয়া বম্বরকরের মতে, ক্যানসার নিজেই শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তার উপর চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অন্ত্রের গতি ধীর হয়ে যায়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই বড় কারণ
কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির সময় ব্যবহৃত একাধিক ওষুধ—বিশেষ করে পেনকিলার ও বমি প্রতিরোধী ওষুধ—অন্ত্রের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এর ফলেই মল শক্ত হয়ে যায় ও মলত্যাগ কঠিন হয়ে পড়ে।
কম নড়াচড়া ও দুর্বলতাও দায়ী
ক্যানসার চিকিৎসার সময় রোগীরা প্রায়শই দুর্বলতা ও ক্লান্তির কারণে দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকেন। শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কমে গেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
জল ও ফাইবারের অভাব বিপদ বাড়ায়
ক্ষুধামন্দা, বমি বা মুখে ঘা হওয়ার কারণে অনেক রোগী কম খান ও কম জল পান করেন। এতে ফাইবার গ্রহণ কমে যায় এবং শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়—যা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

মানসিক চাপও প্রভাব ফেলে অন্ত্রে
ক্যানসার সংক্রান্ত উদ্বেগ, ভয় ও মানসিক চাপ সরাসরি অন্ত্রের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। চিকিৎসা না হলে পাইলস, পায়ুপথে ফাটল বা তীব্র পেটব্যথার ঝুঁকি থাকে।
কী করলেই উপকার মিলবে?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি
চিকিৎসকের অনুমতিতে ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
শরীরের অবস্থা অনুযায়ী অল্প হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
নিজের ইচ্ছায় কখনও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ না খাওয়া

ক্যানসার রোগীদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু প্রায়শই উপেক্ষিত সমস্যা। চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ওষুধ, কম জল পান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়তে পারে শারীরিক যন্ত্রণা ও জটিলতা।













