গঙ্গা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত নজর! রাজ্যে কত ডলফিন আছে জানতে ফের শুরু হচ্ছে ডলফিন শুমারি

পশ্চিমবঙ্গে আবার শুরু হচ্ছে ডলফিন গণনা। গঙ্গা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ‘প্রজেক্ট ডলফিন’-এর অধীনে জানা যাবে রাজ্যে ডলফিনের প্রকৃত সংখ্যা।

গঙ্গার জলে ঠিক কত ডলফিন রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফের শুরু হচ্ছে ডলফিন শুমারি। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রকের উদ্যোগে ‘প্রজেক্ট ডলফিন’-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয়বারের জন্য নদী ও মোহনায় থাকা ডলফিনের গণনা করা হবে। এই সমীক্ষা গঙ্গার মূল ধারা ধরে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত চলবে।

দ্বিতীয়বার বাংলায় ডলফিন গণনা

পরিবেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ডলফিন শুমারি। গঙ্গার পাশাপাশি উপনদী ও সুন্দরবন অঞ্চলের মোহনাতেও নজর দেওয়া হবে। এর ফলে রাজ্যে নদীভিত্তিক ডলফিনের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

দুই ধাপে হবে সমীক্ষা

এই ডলফিন শুমারি দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে।

প্রথম ধাপ: গঙ্গার মূল ধারা ধরে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সমীক্ষা

দ্বিতীয় ধাপ: গঙ্গার উপনদী ও সুন্দরবন এলাকার নদী-মোহনায় সমীক্ষা

একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ‘প্রজেক্ট ডলফিন’-এর আওতায় এই গণনা চলবে।

গতবার কত ডলফিন মিলেছিল?

আগের সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮১৫টি ডলফিন থাকার তথ্য উঠে এসেছিল। তখন ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে ডায়মন্ড হারবার, ডায়মন্ড হারবার থেকে গঙ্গাসাগর, রাজমহল থেকে ফারাক্কা ব্যারেজ এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।

কত নদী, কত এলাকা জুড়ে ছিল আগের সমীক্ষা

গতবারের সমীক্ষায় বাংলার ১২টি নদী, মোট ২৩৬৬ কিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুধুমাত্র গঙ্গা নদীর ক্ষেত্রেই প্রায় ৫৮৪ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ডলফিন গণনা করা হয়েছিল, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ নদীভিত্তিক সমীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত।

শুধু সংখ্যা নয়, নজর বাসস্থান ও ঝুঁকির দিকেও

এইবারের ডলফিন শুমারিতে শুধু সংখ্যা গণনাই নয়, ডলফিনের বাসস্থান, খাদ্যচক্র এবং মানবসৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলিও বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষ করে নৌচলাচল, নদী দূষণ ও জলপ্রবাহের পরিবর্তন ডলফিনের উপর কী প্রভাব ফেলছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে আবার শুরু হচ্ছে গঙ্গা ও সুন্দরবন অঞ্চলের ডলফিন গণনা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রজেক্ট ডলফিন’-এর অধীনে এই শুমারি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ডলফিনের সংখ্যা, বাসস্থান ও সম্ভাব্য বিপদের দিকগুলো খতিয়ে দেখে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা তৈরিই এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য।

Leave a comment