স্টেশনের মাটি খুঁড়তেই হঠাৎ বেরিয়ে এল জং ধরা রেললাইন! ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং স্টেশনের। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের নির্মাণকাজের সময় মাটির একাধিক স্তরের নীচে চাপা পড়ে থাকা এই প্রাচীন রেলপথের সন্ধান মিলেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্রিটিশ আমলে ক্যানিং বন্দরকে ঘিরে যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছিল, এই রেললাইন তারই অংশ। ফলে নতুন করে সামনে এসেছে ক্যানিংয়ের প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ইতিহাস।
মাটির নীচে চাপা পড়েছিল প্রাচীন রেলপথ
ক্যানিং স্টেশন চত্বরে বর্তমানে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের কাজ চলছে। সেই নির্মাণকাজের জন্য মাটি সরানোর সময়ই চোখে পড়ে পুরনো একটি রেললাইন। দীর্ঘদিন মাটির নীচে থাকার কারণে রেললাইনের গায়ে জং ধরেছে। তবে সেটির অস্তিত্ব সামনে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া রেললাইনটি ঊনবিংশ শতকের। এমনকি এটি ১৮৬৭ সালেরও আগের সময়ের হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও রেললাইনটির সঠিক সময়কাল এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন।
ক্যানিং বন্দরকে ঘিরেই কি তৈরি হয়েছিল এই রেললাইন?
ঐতিহাসিক সূত্রের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্রিটিশ আমলে কলকাতার বিকল্প বন্দর হিসেবে ক্যানিংকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্যানিং স্টেশন থেকে মাতলা নদীর তীর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।সেই সময় ক্যানিংকে ঘিরে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। রেলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও ছিল বলে মনে করা হয়।
১৮৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বদলে যায় পরিস্থিতি
ক্যানিং বন্দরকে ঘিরে ব্রিটিশদের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ১৮৬৭ সালের এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে বন্দর এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে ক্যানিং বন্দরের গুরুত্ব কমতে থাকে। একইসঙ্গে পুরনো রেলপথও তার গুরুত্ব হারায় বলে জানা যায়।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। শিয়ালদহ-ক্যানিং রেলপথ চালু হওয়ার পর পুরনো রেললাইনের অস্তিত্বও কার্যত মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। পরে মাটির স্তরের নীচে চাপা পড়ে যায় সেই পুরনো রেলপথ।
নির্মাণকাজেই ফিরে এল ইতিহাসের সাক্ষী
দীর্ঘ সময় পর স্টেশন চত্বরে উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে ফের সামনে এল সেই পুরনো রেললাইন। একসময় যে রেলপথ ক্যানিংয়ের বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে মনে করা হয়, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।উদ্ধার হওয়া রেললাইনটি ঠিক কতটা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, তা জানার জন্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আরও খনন ও ঐতিহাসিক তথ্য যাচাই হলে ক্যানিংয়ের প্রাচীন রেল যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দাবি
প্রাচীন রেললাইনের সন্ধান পাওয়ার পরই সেটিকে সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এটি ক্যানিং তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নির্মাণকাজের কারণে যাতে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।সামাজিক মাধ্যমেও এই প্রাচীন রেললাইন উদ্ধারের খবর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর রয়েছে, অনুসন্ধানের পর এই রেলপথের ইতিহাস সম্পর্কে আর কী তথ্য সামনে আসে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং স্টেশনে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের কাজ চলাকালীন মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পুরনো রেললাইন। প্রাথমিক অনুমান, ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই রেলপথটি ১৮৬৭ সালেরও আগের হতে পারে। ঐতিহাসিক এই নিদর্শন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।









