হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ কিংবা দক্ষিণ ভারত থেকে আসা বিভিন্ন প্রজাতির আমে এখন ভরে উঠেছে বাজার। কিন্তু রসালো এই ফল কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে কার্বাইডে পাকানো আম। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের স্বাদ, গন্ধ এবং গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সচেতন না হলে এই ধরনের ফল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কেন বাড়ছে কার্বাইডে পাকানো আমের আশঙ্কা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় অনেক সময় কাঁচা অবস্থাতেই আম গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া হয়। পরে দ্রুত বাজারজাত করার জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহার করে ফল পাকিয়ে থাকেন।ফলে বাইরে থেকে আমটি পাকা দেখালেও অনেক সময় তার ভেতরের অংশ স্বাভাবিকভাবে পরিপক্ব হয় না। গাছপাকা আমের স্বাভাবিক সুবাস ও স্বাদও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে।
কার্বাইডে পাকানো আমের স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সম্ভাব্য সমস্যাগুলির মধ্যে রয়েছে—
বমি ও বমিভাব
ডায়রিয়া
বদহজম
মাথাব্যথা
অতিরিক্ত দুর্বলতা
অ্যালার্জির সমস্যা
কাশি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ
পেটের বিভিন্ন জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
কার্বাইডে পাকানো আম চিনবেন কীভাবে?
অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং
আমের রং যদি অত্যন্ত উজ্জ্বল হলুদ বা অস্বাভাবিকভাবে চকচকে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
অসমভাবে পাকা ফল
বাইরে পুরো হলুদ হলেও ডাঁটার কাছে বা কিছু অংশে সবুজ রং থেকে গেলে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানোর ইঙ্গিত হতে পারে।
গন্ধের অভাব
গাছপাকা আমের একটি স্বাভাবিক মিষ্টি সুবাস থাকে। সেই গন্ধ না থাকলে সন্দেহের কারণ থাকতে পারে।
স্বাদে অস্বাভাবিকতা
কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে অনেক সময় স্বাভাবিক মিষ্টত্ব কম থাকে এবং স্বাদ কিছুটা ফ্যাকাশে বা অস্বাভাবিক লাগে।
আকার ও গঠনে অসঙ্গতি
অনেক ক্ষেত্রে ফলের বাইরের অংশ পাকা দেখালেও ভেতরের শাঁস শক্ত বা অসমভাবে পাকা থাকে।
কীভাবে কমাবেন রাসায়নিকের প্রভাব?
জলে ভিজিয়ে রাখুন
আম কেনার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক ও ময়লা দূর হতে সাহায্য করতে পারে।
ভালোভাবে ধুয়ে নিন
খাওয়ার আগে প্রবাহিত জলে আম ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
খোসা ছাড়িয়ে খান
যেহেতু অনেক রাসায়নিক ফলের বাইরের অংশে থাকে, তাই খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।
বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন
পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে আম কিনলে ঝুঁকি কমে।
গাছপাকা আম কেন বেশি নিরাপদ?
স্থানীয় চাষিদের মতে, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে গাছপাকা হিমসাগর, ল্যাংড়া ও অন্যান্য দেশি আমের সরবরাহ বাড়ে। এই ধরনের আমে স্বাভাবিক স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যতটা সম্ভব মৌসুমি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আম বেছে নেওয়া উচিত।
আম কেনার সময় আরও যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
অতিরিক্ত চকচকে ফল এড়িয়ে চলুন।
অস্বাভাবিক দাগ বা রাসায়নিকের গন্ধ আছে কি না পরীক্ষা করুন।
খুব কম দামে অস্বাভাবিকভাবে পাকা আম কিনতে সতর্ক থাকুন।
শিশুদের জন্য ফল কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।
গরমের মরশুমে বাজারে আমের চাহিদা তুঙ্গে। তবে দ্রুত পাকানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আম খেলে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আম কেনার আগে কিছু লক্ষণ দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি।













