দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জলাভূমি নির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষার চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আশার আলো দেখাল চামটা বিল। আধুনিক পেন কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ছয় মাসে দেশি ট্যাংরা চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। গবেষকদের দাবি, এই মডেল ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের জলাভূমি-ভিত্তিক মৎস্যচাষে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে মিলল বড় সাফল্য
ব্যারাকপুরের কেন্দ্রীয় অন্তদেশীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (ICAR-CIFRI)-এর উদ্যোগে চামটা বিলে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক পেন কালচার পদ্ধতিতে দেশি ট্যাংরা চাষ শুরু হয়। বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার ফলে মাত্র ছয় মাসেই প্রকল্পটি সফল হয়েছে এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মাত্র ৬ মাসে উৎপাদন ৩৮৭ কেজি ট্যাংরা
গবেষণা প্রকল্পের আওতায় প্রথমে মাত্র ২.২৮ গ্রাম ওজনের ট্যাংরা মাছের পোনা ছাড়া হয়েছিল। ছয় মাস পর সেই মাছের গড় ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩.৬ গ্রাম। এই সময়ে মোট ৩৮৭ কেজি দেশি ট্যাংরা উৎপাদিত হয়েছে, যা প্রকল্পের সাফল্যের অন্যতম প্রমাণ।
মাছ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ
উৎপাদিত মাছের একটি অংশ সংগ্রহের পর পুনরায় জলাভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে মাছের বেঁচে থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
মৎস্যজীবীদের আয়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা
চামটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দাবি, এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আয়ের সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে। দেশি ট্যাংরার বাজারদর তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় স্বল্প সময়েই ভালো আর্থিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।
ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ হতে পারে ‘চামটা মডেল’
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক পেন কালচার প্রযুক্তি শুধু মাছ উৎপাদন বাড়ায় না, জলাভূমির পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জলাভূমিতেও এই মডেল অনুসরণ করা হলে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চামটা বিলে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া আধুনিক পেন কালচার পদ্ধতিতে ট্যাংরা চাষ সফল হয়েছে। মাত্র ছয় মাসে ৩৮৭ কেজি দেশি ট্যাংরা উৎপাদন করে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাল কেন্দ্রীয় অন্তদেশীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র।











