ধানক্ষেতের গেঁড়ি শামুক বহু মানুষের প্রিয় খাদ্য। কম দামে সহজে মেলে বলে গ্রামাঞ্চলে এর চাহিদাও কম নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের প্রভাবে এই শামুকের শরীরে জমা হতে পারে বিষাক্ত রাসায়নিক, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় কী দাবি করা হয়েছে?
বাঁকুড়ার পাত্রসায়র এলাকার বাসিন্দা ও বিজ্ঞান শিক্ষক শুভাশিস পালের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ধানক্ষেত থেকে সংগৃহীত গেঁড়ি শামুকের নমুনায় ক্লোরপাইরিফস (Chlorpyrifos) নামের একটি অর্গানোফসফেট কীটনাশকের উপস্থিতি মিলেছে। তাঁর গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এই গবেষণার ভিত্তিতেই তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
গবেষকের মতে, বর্তমানে ধানচাষে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সেই রাসায়নিক ধানক্ষেতের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। গেঁড়ি শামুক সেই পরিবেশেই বেড়ে ওঠে, ফলে তাদের শরীরেও বিষাক্ত উপাদান জমা হতে পারে। পরে সেই শামুক মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন শামুক খেলে সম্ভাব্যভাবে—
ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে
স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে
হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে
প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
কোষ ও জিনের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়তে পারে
তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে আরও বৃহৎ পরিসরের বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন বলেও গবেষক উল্লেখ করেছেন।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতার বার্তা
শুভাশিস পাল জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনও আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। বরং কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির প্রসার এবং খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও খাদ্য নিয়ে গবেষণার ফল সামনে এলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে একটি গবেষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে আরও স্বাধীন ও বৃহৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি। পাশাপাশি নিরাপদ উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহ এবং ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করে খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

বাংলার গ্রামাঞ্চলে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত ধানক্ষেতের গেঁড়ি শামুক নিয়েই উঠে এল উদ্বেগের খবর। এক গবেষকের দাবি, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এই শামুকে জমা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা দীর্ঘদিন খেলে ক্যানসার-সহ একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে গবেষকের বক্তব্য, আতঙ্ক নয়—সচেতনতাই মূল লক্ষ্য।






