সন্তান নির্দিষ্ট বয়সে কথা না বললে অধিকাংশ অভিভাবকের মনেই প্রথমে অটিজমের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে কথা বলা এবং অটিজম এক বিষয় নয়। শিশুর বিকাশের নানা দিক পর্যবেক্ষণ করেই প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেরিতে কথা বলা মানেই অটিজম নয়
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশুই স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হিসেবে কিছুটা দেরিতে কথা বলতে শুরু করে। তাই শুধু কথা বলতে দেরি হওয়ার কারণে অটিজমের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে বুঝতে হবে শিশুর সমস্যা কোথায় এবং কোন কারণে তার ভাষা বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
স্ক্রিন টাইম বাড়ছে, বাড়ছে ভাষাগত সমস্যা
বর্তমানে শিশুদের হাতে মোবাইল, ট্যাব বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটালে শিশুর সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়, ফলে কথা বলার দক্ষতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শ্রবণশক্তির সমস্যাও হতে পারে বড় কারণ
অনেক ক্ষেত্রে শিশুর কানের সমস্যা বা শ্রবণশক্তি কম থাকলে সে অন্যের কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পারে না। ফলে ভাষা শেখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই শিশু বয়স অনুযায়ী কথা না বললে প্রথমেই শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও শিশুর সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) একটি স্নায়বিক বিকাশগত অবস্থা, যা সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যে প্রভাব ফেলে। যদি কোনও শিশু অন্যদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা না বলে, নিজের জগতে ডুবে থাকে, বারবার একই শব্দ বা বাক্য আওড়ায়, ইশারা বুঝতে না পারে, অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশতে না চায় বা একই কাজ বারবার করতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাথমিক হস্তক্ষেপেই মিলতে পারে সেরা ফল
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা যত দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে, শিশুর উন্নতির সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে। স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং বিশেষ শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর যোগাযোগ দক্ষতা ও সামাজিক আচরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। তাই সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে দ্রুত মূল্যায়ন করানো জরুরি।
অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শিশুর বিকাশের প্রতিটি ধাপ খেয়াল রাখা অভিভাবকদের অন্যতম দায়িত্ব। শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, গল্প শোনানো, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করানো এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত রাখা ভাষা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া মানেই অটিজম নয়। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, শ্রবণশক্তির সমস্যা বা মনোযোগের ঘাটতির কারণেও এমন হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট আচরণগত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।













