অফিস টাইমে চিংড়িঘাটা, সল্টলেক ও নিউটাউনের যানজট বহুদিনের সমস্যা। প্রতিদিন হাজার হাজার অফিসযাত্রীকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় কাটাতে হয়। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক এলিভেটেড করিডর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
৭.৪১ কিলোমিটারের আধুনিক এলিভেটেড করিডর
রাজ্য বাজেটে ঘোষিত এই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ৭.৪১ কিলোমিটার। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই এলিভেটেড করিডর ইএম বাইপাসের চিংড়িঘাটাকে সরাসরি সল্টলেক সেক্টর-৫ ও নিউটাউনের সঙ্গে যুক্ত করবে। ফলে বিমানবন্দর, রাজারহাট ও আইটি হাবমুখী যানবাহনের চলাচল অনেকটাই সহজ হবে।
কমবে যানজট, বাঁচবে মূল্যবান সময়
বর্তমানে অফিসের ব্যস্ত সময়ে চিংড়িঘাটা মোড়, সেক্টর-৫ এবং নিউটাউন সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। নতুন এলিভেটেড করিডর চালু হলে মূল সড়কের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় এবং দূষণ কমাতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
থাকছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ও স্মার্ট অবকাঠামো
একাধিক অন-র্যাম্প ও অফ-র্যাম্প
এলিভেটেড পার্কিং বেস
শব্দদূষণ কমাতে নয়েজ ব্যারিয়ার
সেতুর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম
পুরো করিডর জুড়ে সিসিটিভি নজরদারি
এই সমস্ত ব্যবস্থার ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে।
লক্ষাধিক মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে স্বস্তি
রাজ্য সরকারের দাবি, এই করিডর চালু হলে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে সেক্টর-৫, নিউটাউন, রাজারহাট, ইএম বাইপাস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে।
কবে শুরু হবে নির্মাণকাজ?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্ব কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত ৭.৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর নির্মাণের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। প্রায় ৯০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেক্টর-৫, নিউটাউন, রাজারহাট ও বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যাতায়াত হবে আরও দ্রুত, কমবে যানজট এবং মিলবে আধুনিক পরিকাঠামোর সুবিধা।













