গরমের ছুটিতে শহরের ব্যস্ততা আর কংক্রিটের জঙ্গল থেকে দূরে দু'দিনের শান্তির খোঁজে রয়েছেন? তাহলে আপনার তালিকায় রাখতে পারেন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর চুপির চর। একদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ প্রকৃতি, অন্যদিকে নদীর বুকে নৌকাবিহার, তার সঙ্গে গাছপাকা হিমসাগর-ল্যাংড়ার স্বাদ—সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের ছোট্ট সফরের জন্য এক অনন্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে চুপি।
শীতের পাখিরালয়, এখন গরমের পর্যটন কেন্দ্র
পূর্বস্থলীর চুপির নাম শুনলেই প্রথমে মনে পড়ে পরিযায়ী পাখির কথা। প্রতি বছর শীতকালে হাজার হাজার বিদেশি পাখির আগমনে মুখর হয়ে ওঠে এই এলাকা। প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার এবং পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে চুপির চর ও তার আশপাশের জলাভূমি। তবে এখন সেই পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে চুপি ধীরে ধীরে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
আমের টানেই বাড়ছে পর্যটকের ভিড়
স্থানীয়দের মতে, গরমের মরসুমে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ পূর্বস্থলীর বিখ্যাত আম। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি ও গোলাপখাস-সহ নানা প্রজাতির আমের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত এই অঞ্চল। অনেক পর্যটক সরাসরি বাগানে গিয়ে গাছপাকা আমের স্বাদ নিচ্ছেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্যও আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমকেন্দ্রিক এই অভিজ্ঞতা চুপির পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্তির আশ্রয়
চুপির অন্যতম আকর্ষণ তার নিরিবিলি পরিবেশ। শহরের কোলাহল, যানজট এবং দূষণ থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য এখানে রয়েছে একাধিক রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস। নদীর ধারে সবুজে ঘেরা পরিবেশে পরিবার কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। সপ্তাহান্তে ছোট্ট ছুটি কাটানোর জন্য অনেকেরই প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে এই এলাকা।
নৌকাবিহারে অন্যরকম রোমাঞ্চ
চুপিতে বেড়াতে এসে নৌকাবিহারের অভিজ্ঞতা না নিলে সফর যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নদীর শান্ত জলে ধীরে ধীরে ভেসে চলা নৌকা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং পাখির ডাক এক অনন্য অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় নদীর বুক থেকে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের মধ্যে। অনেকেই নির্জন পরিবেশে প্রিয়জনের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে নৌকাবিহারকে বেছে নিচ্ছেন।
পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা দেখছে চুপি
পরিযায়ী পাখির মরসুম না থাকলেও চুপির আকর্ষণ যে কমে যায়নি, তা স্পষ্ট পর্যটকদের উপস্থিতি থেকেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিদের মতে, গরমকালেও এখন নিয়মিত পর্যটক আসছেন। ফলে এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যটনের এই নতুন ধারা ভবিষ্যতে চুপিকে বছরভর জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শীতকালে পরিযায়ী পাখির জন্য পরিচিত পূর্ব বর্ধমানের চুপির চর এখন গ্রীষ্মকালেও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমবাগানের সুবাস, নদীর নির্জন পরিবেশ, নৌকাবিহার এবং স্বল্প খরচে থাকার সুযোগ মিলিয়ে সপ্তাহান্তের ভ্রমণের জন্য আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই এলাকা।













