শহুরে জীবনে কমোড এখন স্বাভাবিক। আরামে বসে মলত্যাগ যেন আধুনিকতার প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই আরাম কি আদৌ শরীরের পক্ষে ভালো? নাকি আমাদের পুরনো ভারতীয় বা স্কোয়াট টয়লেট ব্যবস্থাই ছিল বেশি স্বাস্থ্যসম্মত? সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত টয়লেট সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করে মিলছে চমকপ্রদ তথ্য।
টয়লেট সংস্কৃতির বৈচিত্র্য: বিশ্ব কী ব্যবহার করছে?
বিশ্বের নানা দেশে টয়লেট ব্যবহারের ধরন আলাদা। জাপান, চীন, ভারত, থাইল্যান্ডের মতো দেশে এখনও স্কোয়াট টয়লেট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। জাপানে আধুনিক কমোডের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াশিকি’ টয়লেট আজও স্কুল, স্টেশন ও পার্কে দেখা যায়। এর মূল কারণ—সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, টেকসই নকশা ও স্বাস্থ্যকর ব্যবহার।
স্কোয়াট ভঙ্গি কেন প্রাকৃতিক?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হাঁটু ভাঁজ করে বসলে অন্ত্র ও মলদ্বারের মাঝের কোণ সোজা হয়। এতে কম চাপেই সহজে মলত্যাগ সম্ভব হয়। এই ভঙ্গিতে—
কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে
পাইলস ও ফিশারের সম্ভাবনা হ্রাস পায়
অন্ত্র পুরোপুরি পরিষ্কার হয়
অন্যদিকে কমোডে বসলে এই কোণটি বাঁকানো থাকে, ফলে অনেক সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়।
স্বাস্থ্যবিধি ও জীবাণু সংক্রমণের প্রশ্ন
স্কোয়াট টয়লেটে শরীর সরাসরি আসনের সংস্পর্শে আসে না। ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। পাবলিক টয়লেটের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের মতো দেশে নকশার মাধ্যমেই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দিকে জোর দেওয়া হয়।
তাহলে কমোড কি একেবারেই খারাপ?
একেবারেই নয়। বয়স্ক মানুষ, হাঁটুর সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে কমোড অনেক বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—কমোড ব্যবহার করলে পায়ের নিচে ছোট স্টুল রেখে হাঁটু সামান্য উঁচু করা উচিত, যাতে স্কোয়াটের মতো ভঙ্গি তৈরি হয়।
আধুনিক জীবনে কমোড ব্যবহারের চল বাড়লেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন—হাঁটু ভাঁজ করে স্কোয়াট ভঙ্গিতে মলত্যাগ শরীরের জন্য বেশি উপকারী। অন্ত্রের স্বাভাবিক গঠন, হজম প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্যবিধির নিরিখে কোন টয়লেট পদ্ধতি সেরা, তা নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন।













