ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ফেলেই রাখছেন? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ভুল, ধাক্কা খেতে পারে সিবিল স্কোরও

ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো না মেটালে বাড়তে পারে সুদ, কমতে পারে সিবিল স্কোর। ভবিষ্যতের ঋণ ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও পড়তে পারে বড় প্রভাব।

আজকাল অনেকেই দৈনন্দিন খরচ থেকে বড় কেনাকাটার জন্য নির্ভর করছেন ক্রেডিট কার্ডের উপর। কিন্তু সময়মতো বিল না মেটালে সেই সুবিধাই হয়ে উঠতে পারে বড় সমস্যার কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যূনতম বকেয়াও যদি দীর্ঘদিন জমা না দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু আর্থিক চাপই বাড়ায় না, ভবিষ্যতের ঋণ পাওয়ার পথও কঠিন করে দিতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ফেলেই রাখছেন? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ভুল, ধাক্কা খেতে পারে সিবিল স্কোরও
প্রথমে সতর্কবার্তা, পরে বাড়তে থাকে সমস্যা

ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো না মেটালে প্রথমদিকে ব্যাঙ্ক সেটিকে সাধারণ বিলম্ব হিসেবেই ধরে। কিন্তু একের পর এক বিলিং সাইকেল পেরিয়ে গেলে অ্যাকাউন্ট ৩০ দিন, ৬০ দিন এবং পরে ৯০ দিনের ‘ওভারডিউ’ শ্রেণিতে চলে যায়। এই সময় ব্যাঙ্কের তরফে ফোন, SMS ও ইমেলের মাধ্যমে নিয়মিত বকেয়া মেটানোর জন্য যোগাযোগ করা হয়।

৯০ দিন পার হলেই ‘এনপিএ’ হওয়ার আশঙ্কা

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, ৯০ দিনেরও বেশি সময় বকেয়া পড়ে থাকলে সেই অ্যাকাউন্টকে ‘NPA’ বা Non-Performing Asset হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাঙ্কের চোখে সেই অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ফেলেই রাখছেন? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ভুল, ধাক্কা খেতে পারে সিবিল স্কোরও
রিকভারি এজেন্সি ও আইনি নোটিসের ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক মাস বকেয়া না মেটালে বিষয়টি ‘রিকভারি স্টেজ’-এ পৌঁছে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক রিকভারি এজেন্সির সাহায্য নেয় বা আইনি নোটিস পাঠায়। কিছু ব্যাঙ্ক ‘ওয়ান টাইম সেটেলমেন্ট’-এর সুযোগও দেয়, যেখানে সম্পূর্ণ বকেয়া না মিটিয়েও কম টাকায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কিন্তু গুরুতর হতে পারে।

সিবিল স্কোরে বড় ধাক্কা

ব্যাঙ্কের সঙ্গে সেটেলমেন্ট বা ডিফল্টের তথ্য পৌঁছে যায় ক্রেডিট ব্যুরো সংস্থাগুলির কাছে। যেমন CIBIL বা Experian রিপোর্টে উল্লেখ থাকে যে গ্রাহক পুরো টাকা শোধ করেননি। এর ফলে সিবিল স্কোর দ্রুত কমে যেতে পারে। আর একবার খারাপ রেকর্ড তৈরি হলে তা বহু বছর পর্যন্ত ক্রেডিট রিপোর্টে থেকে যেতে পারে।

ভবিষ্যতের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে

খারাপ ক্রেডিট হিস্ট্রির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ভবিষ্যতের ঋণের উপর। হোম লোন, গাড়ির ঋণ বা নতুন ক্রেডিট কার্ড— সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেক সময় আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। আবার ঋণ মিললেও সুদের হার বেশি হতে পারে বা কম ক্রেডিট লিমিট দেওয়া হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ফেলেই রাখছেন? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ভুল, ধাক্কা খেতে পারে সিবিল স্কোরও
সুদ ও লেট ফি বাড়িয়ে দেয় চাপ

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া যত দিন পড়ে থাকে, ততই বাড়তে থাকে সুদ ও অতিরিক্ত চার্জ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক উচ্চ হারে সুদ ধার্য করে। ফলে শুরুতে ছোট মনে হওয়া বকেয়াই পরে বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়।

সমস্যা হলে শুরুতেই ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলুন

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনও কারণে বকেয়া মেটাতে সমস্যা হলে শুরুতেই ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। অনেক সময় EMI বা রিস্ট্রাকচারিংয়ের সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোও জরুরি।

ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ফেলেই রাখছেন? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ভুল, ধাক্কা খেতে পারে সিবিল স্কোরও
ক্রেডিট কার্ডের ন্যূনতম বকেয়াও সময়মতো পরিশোধ না করলে ধীরে ধীরে বড় আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। শুধু সুদ বা লেট ফি নয়, প্রভাব পড়তে পারে সিবিল স্কোর, ভবিষ্যতের ঋণ এবং একাধিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও।

Leave a comment