কানপুরে তীব্র গরমের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিন তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, যার ফলে সাধারণ জনজীবন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ শহরটিকে রেড জোনে রেখেছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তীব্র লু বয়ে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।
তীব্র গরমের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। দুপুরের সময় সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা যাচ্ছে এবং মানুষ শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন।
কানপুরে সকাল থেকেই তীব্র রোদ এবং গরম হাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে শুরু করে। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। গরম হাওয়ার দমকা প্রবাহ মানুষের বাইরে বের হওয়া কঠিন করে তুলেছে।
চিকিৎসকরা মানুষকে দুপুরের সময় বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। লুর সময় পর্যাপ্ত পানি পান এবং শরীর ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের একাধিক এলাকায় দুপুরের সময় বাজারগুলোতে নীরবতা দেখা গেছে। মানুষকে মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় এবং বরফের চাহিদাও হঠাৎ বেড়ে গেছে।
স্কুল বন্ধ হওয়ার পর অভিভাবকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এত তীব্র গরমে শিশুদের স্কুলে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।
সামাজিক মাধ্যমেও কানপুরের গরম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মানুষ তাপমাত্রা-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। একাধিক ব্যবহারকারী গরমকে “আগুন উগরে দেওয়া আবহাওয়া” বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং শহুরে এলাকায় কংক্রিটের বিস্তার হিটওয়েভের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য ও সবুজায়ন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মানুষকে সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়া বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।











