ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ মানুষের সামনে গীতাপাঠের আয়োজনে রামায়ণ–মহাভারত থেকে শ্রীকৃষ্ণের বাণী তুলে ধরলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে বক্তৃতার শেষের দিকে তাঁর ‘নরেন্দ্র, নরেন্দ্র, নরেন্দ্র’ মন্তব্য ঘিরে উত্তাপ চড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
গীতাপাঠের মঞ্চে ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ
ব্রিগেডের গীতাপাঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল এদিন মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের নানা মুহূর্ত তুলে ধরেন। কীভাবে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে পথ দেখিয়েছিলেন, কীভাবে তাঁর উপস্থিতি আলো হয়ে উদ্ভাসিত ছিল—তার ব্যাখ্যা দেন বোস।
জয়দ্রথ থেকে শুরু করে অর্জুনের অহম—মহাভারতের কাহিনি টেনে মন্তব্য রাজ্যপালের
জয়দ্রথ বধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, “সূর্য আমাদের উপর আছে, অস্ত্র আমাদের সঙ্গে আছে, শত্রুরাও সামনে আছে। বাংলা ধর্মের আস্ফালনকে শেষ করার জন্যও প্রস্তুত আছে।” এরপর তিনি তুলে ধরেন, যুদ্ধ শেষে অর্জুনের অহমিকায় কীভাবে শ্রীকৃষ্ণ তাকে সত্য উপলব্ধি করান।
‘আমি রথে ছিলাম বলেই বিস্ফোরণে ভাঙেনি’—রাজ্যপালের শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধৃতি
রাজ্যপাল বলেন, শ্রীকৃষ্ণ রথ থেকে নামতেই আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সেই রথ। অর্জুন হতভম্ব হয়ে গেলে শ্রীকৃষ্ণ জানান—রথটিতে দৈব্যাস্ত্র পড়েও কিছু হয়নি শুধু তাঁর উপস্থিতির কারণেই।
এখানেই চমক—“ভারতের রথ টিকে আছে কারণ এক নরেন্দ্র আছেন”
এই বর্ণনার ঠিক পরেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন,“ভারত নামের রথের ওরকম অবস্থা হচ্ছে না কারণ হয়তো ওতে এক নরেন্দ্র আছেন, নরেন্দ্র আছেন, নরেন্দ্র আছেন।”তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত ধেয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে। পাঁচ লক্ষ জনতার সামনে রাজ্যপালের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহল সরগরম।
বামেদের কটাক্ষ—“ক্যামেরা দেখলে গীতাপাঠ শুরু করেন রাজ্যপাল”
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কার্যত সুর চড়িয়েই বলেন,“বাড়িতে গীতাপাঠের অভ্যাস নেই, সময় নেই, বিশ্বাসও নেই! তাই ক্যামেরা দেখলেই শুরু করেন। অপদার্থ রাজ্যপাল। রাজ্যপাল নিজের কাজ করতে ব্যর্থ, সেই কারণেই আজেবাজে মন্তব্য করছেন।”তাঁর কথায়, রাজ্যপালের এমন বক্তব্য সাংবিধানিক পদমর্যাদার মর্যাদাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়?
রাজ্যপালের ব্রিগেড ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিজেপি–বিরোধী দলগুলি তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অপরদিকে রাজ্যপালের ঘনঘন রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও বাড়ছে বিতর্ক।আগামী কয়েকদিনে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে ব্রিগেডের বিশাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস হঠাৎ বললেন—“নরেন্দ্র আছেন, নরেন্দ্র আছেন, নরেন্দ্র আছেন।” মহাভারতের উদ্ধৃতি টেনে তিনি শ্রীকৃষ্ণ–অর্জুন প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, বামেদের কটাক্ষও ধেয়ে এসেছে।











