বছর শেষে টলিউডে শোকের ছায়া: প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়

৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। রবিবার রাতে বাঙুর হাসপাতালে মৃত্যু। দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর প্রয়াণে টলিউডে নেমেছে গভীর শোক। আজ রাতেই শেষকৃত্য।

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে রবিবার রাতে বাঙুর হাসপাতালে চূড়ান্ত বিদায় নিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে থেকে ছোটপর্দা—সবখানেই।

মৃত্যু সংবাদে স্তব্ধ টলিউড

রবিবার রাত পৌনে ন’টা নাগাদ বাঙুর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালেই রাখা রয়েছে।

শেষকৃত্য আজ রাতেই, চলছে প্রয়োজনীয় ফর্মালিটি

হাসপাতাল ও আইনি সমস্ত নিয়মকানুন মিটে গেলে আজ রাতেই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। পরিবারের পাশাপাশি আটিস ফোরামের সদস্যরাও শেষযাত্রার আয়োজনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

চরিত্রাভিনয়ে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব

কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বাংলা সিনেমার এক পরিচিত মুখ। ‘সাগিনা মাহাতো’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘পার’, ‘সফেদ হাতি’, ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’—সহ বহু কালজয়ী ছবিতে তাঁর চরিত্রাভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে আজও গেঁথে আছে।শিল্পীমহলের দাবি, সহ-অভিনেতাদের মধ্যেও তিনি ছিলেন স্বভাবতই জনপ্রিয় এবং নীরব ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

চলচ্চিত্র থেকে ধারাবাহিকে—সমান দাপট

শুধু বড়পর্দা নয়, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও টেলিফিল্মেও তাঁর অভিনয় ছিল প্রশংসিত। বহু প্রজন্মের দর্শক তাঁকে স্মরণ করে রেখেছেন বহুমুখী চরিত্রে পারদর্শী এক অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

বহরমপুর থেকে টলিউড—দীর্ঘ যাত্রার গল্প

১৯৪২ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জন্মগ্রহণ করেন কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। ১৯৬৮ সালে ‘আপনজন’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর যাত্রা। এরপর সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

কিংবদন্তিদের সঙ্গে পর্দা ভাগ, বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা

মহানায়ক উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও বিদ্যা বালান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির মতো তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। কয়েকশো চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান বাংলা সিনেমার আর্কাইভ সমৃদ্ধ করেছে।

শেষ লড়াই—হাসপাতালের বিছানায়

গত কয়েকদিন ধরে বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা সব প্রচেষ্টা চালালেও ক্রমে জটিল হয়ে উঠছিল তাঁর শারীরিক সমস্যা। রবিবার রাতে শেষ হয়ে যায় সমস্ত লড়াই।

শোকের ছায়ায় টলিপাড়া

টলিউডের বহু শিল্পী, পরিচালক, টেকনিশিয়ন কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। রবিবার রাত পৌনে ন’টায় বাঙুর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পর তাঁর মৃত্যুতে টলিপাড়ায় নেমেছে গভীর শোক। আজ রাতেই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।

Leave a comment