এম এম নারাভানে’র স্মৃতিকথার কথিত ফাঁস নিয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্ত জোরদার

এম এম নারাভানে’র স্মৃতিকথার কথিত ফাঁস নিয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্ত জোরদার

প্রাক্তন স্থলসেনা প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে’র বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বইটি প্রকাশের আগেই এর কথিত ফাঁসকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে তদন্ত জোরদার হয়েছে। বিষয়টি এখন কেবল প্রকাশনা সংক্রান্ত ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এতে ষড়যন্ত্র, বিধি উপেক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের মূল প্রশ্ন হচ্ছে, বইটির সংবেদনশীল অংশ কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বাধ্যতামূলক অনুমতি ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে জনসমক্ষে আনা হয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্পেশাল সেল ইতিমধ্যে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়াকে নোটিস জারি করে প্রায় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। এসব প্রশ্নের সঙ্গে পাণ্ডুলিপির সুরক্ষা, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, অভ্যন্তরীণ বিতরণ এবং বিষয়বস্তু ফাঁসের সম্ভাবনা জড়িত।

বুধবার স্পেশাল সেলের একটি দল গুরুগ্রামে অবস্থিত পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিদর্শন করে। পরে সংস্থার প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। কর্মকর্তাদের মতে, কিছু প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে, তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক উত্তরের বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রকাশনা সংস্থার ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সম্পাদকীয় দলের সঙ্গেও আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

বিতর্কের প্রেক্ষিতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে জেনারেল এম এম নারাভানে’র স্মৃতিকথা এখনও প্রকাশিত হয়নি। বইটির কোনো মুদ্রিত কপি বাজারে আসেনি এবং কোনো ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশ করা হয়নি।

সংস্থার দাবি, তাদের পক্ষ থেকে বইটির কোনো কপি কোনো মাধ্যমেই প্রকাশ, বিতরণ বা বিক্রি করা হয়নি। যদি কোনো বিষয়বস্তু জনসমক্ষে এসে থাকে, তা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা চ্যানেল থেকে আসেনি।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণের আগে সব প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত দিক খতিয়ে দেখছে।

জেনারেল এম এম নারাভানে’র দায়িত্বকাল ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সময়ে পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় গুরুতর অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে তার স্মৃতিকথায় সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনার বিবরণ থাকার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে কারণেই প্রাক্তন সামরিক প্রধানদের বই প্রকাশের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদনের উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে কোনো সংবেদনশীল তথ্য, কৌশলগত বিবরণ বা জাতীয় নিরাপত্তা-সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ না পায়। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের তথ্য প্রকাশিত হলে তা গুরুতর আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে স্মৃতিকথার অংশ অনুমোদন ছাড়াই ফাঁস হয়েছে, তবে তা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই আইনের অধীনে দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব বা সামরিক স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে এমন তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

স্পেশাল সেল আরও খতিয়ে দেখছে, কথিত অংশগুলি কীভাবে এবং কোন স্তর থেকে বাইরে এসেছে। এটি কোনো অভ্যন্তরীণ ত্রুটির ফল ছিল, নাকি বাহ্যিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়বস্তু ফাঁস হয়েছে, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় পাণ্ডুলিপি প্রায়শই একাধিক ফরম্যাট ও ক্লাউড-ভিত্তিক সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা ও অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। খসড়া পাণ্ডুলিপিতে কতজনের প্রবেশাধিকার ছিল এবং সেই প্রবেশাধিকার অপব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

 

Leave a comment