বাঙালির রান্নাঘরে কাঁচা লঙ্কার কদর আলাদা। ডাল-ভাত হোক কিংবা তরকারি, একটু ঝাল না হলে অনেকেরই খাওয়া জমে না। তাই বাজার থেকে বারবার লঙ্কা কেনার বদলে বাড়ির বারান্দা বা ছাদে টবেই তৈরি করতে পারেন নিজের লঙ্কাগাছ। খুব বেশি জায়গারও প্রয়োজন নেই। সঠিক মাটি, আলো ও পরিচর্যা পেলে টবের গাছেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
বাড়িতে থাকা লঙ্কার বীজ দিয়েই শুরু করুন
লঙ্কাগাছ তৈরি করার জন্য সবসময় নার্সারি থেকে বীজ কিনতেই হবে এমন নয়। পাকা শুকনো লাল লঙ্কা থেকে বীজ বের করে নিতে পারেন। তবে বীজ যেন ভালো মানের, পরিণত এবং ছত্রাক বা পচনের লক্ষণমুক্ত হয়।বীজ কয়েক ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রেখে তারপর মাটিতে বপন করা যেতে পারে। এতে বীজের আবরণ কিছুটা নরম হয় এবং অঙ্কুরোদ্গমে সহায়তা করতে পারে।
বীজ কতটা গভীরে পুঁতবেন?
ছোট টব বা বীজতলায় ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করে তাতে অল্প গভীরে লঙ্কার বীজ ছড়িয়ে দিন। খুব বেশি গভীরে বীজ পুঁতে দিলে অঙ্কুর বেরোতে সমস্যা হতে পারে।বীজের উপর পাতলা করে মাটি দিয়ে স্প্রে বোতলে জল দিন। টব এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়, তবে সদ্য অঙ্কুর বেরোনোর সময় তীব্র রোদ থেকে চারাকে কিছুটা সুরক্ষা দিন।
চারা বড় হলে বড় টবে বসান
চারা কিছুটা বড় হয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে অপেক্ষাকৃত বড় টবে স্থানান্তর করতে পারেন। চারা তোলার সময় মাটিসহ শিকড়ের অংশ যতটা সম্ভব অক্ষত রাখুন।টবে বসানোর পর কয়েক দিন গাছকে হঠাৎ তীব্র রোদে না রেখে ধীরে ধীরে বেশি আলোতে অভ্যস্ত করা ভালো। গাছ একটু শক্ত হয়ে গেলে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক পেলে লঙ্কাগাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
জল দেওয়ার সময় এই ভুল করবেন না
লঙ্কাগাছের মাটি একেবারে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন। আবার মাটি ভিজে থাকা অবস্থায় বারবার জল দিলে টবে জল জমে শিকড় পচে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।তাই জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে টবের উপরিভাগের মাটি পরীক্ষা করে নিতে পারেন। মাটি এখনও ভেজা থাকলে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। টবের নীচে অবশ্যই পর্যাপ্ত নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকা জরুরি।
লঙ্কাগাছের জন্য কেমন মাটি দরকার?
লঙ্কাগাছের টবের মাটি ঝুরঝুরে এবং ভালোভাবে জল নিষ্কাশন করতে পারে এমন হওয়া দরকার। সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে পচা জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে মাটি তৈরি করা যেতে পারে।মাটি খুব শক্ত বা কাদামাটির মতো হলে টবে জল আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এমন মিশ্রণ ব্যবহার করুন যাতে অতিরিক্ত জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
১৫ দিন অন্তর সার দেবেন? পরিমাণে রাখুন নিয়ন্ত্রণ
গাছের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি প্রয়োজন। তবে ইউরিয়া বা অন্য রাসায়নিক সার নিজের মতো করে বেশি পরিমাণে দেওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত সার গাছের শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে।পরিবর্তে পচা গোবর সার বা ভালো মানের কম্পোস্টের মতো জৈব সার পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্যাকেটের নির্দেশিত মাত্রা মেনে এবং গাছের বয়স ও টবের আকার অনুযায়ী প্রয়োগ করুন।
কতদিনে লঙ্কা ধরতে পারে?
পরিবেশ, জাত, মাটি ও পরিচর্যার উপর নির্ভর করে লঙ্কাগাছে ফল আসতে সময়ের পার্থক্য হতে পারে। সাধারণত চারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গাছে ফুল আসে এবং পরে সেই ফুল থেকেই লঙ্কা তৈরি হয়।পর্যাপ্ত আলো, সঠিক জল নিষ্কাশন এবং নিয়মিত পরিচর্যা থাকলে টবের গাছ থেকেও দীর্ঘ সময় ধরে লঙ্কা পাওয়া সম্ভব।
রোদ কতটা প্রয়োজন?
লঙ্কাগাছ সাধারণত পর্যাপ্ত সূর্যালোক পছন্দ করে। তাই বারান্দা, জানালার ধারে বা ছাদের এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা আলো পাওয়া যায়।
তবে সদ্য টবে স্থানান্তর করা চারাকে আচমকা প্রচণ্ড রোদে রাখলে গাছ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে গাছকে সরাসরি আলোতে অভ্যস্ত করা ভালো।
টবে লঙ্কাগাছ ভালো রাখতে ৫টি বিষয় মনে রাখুন
টবের মাটি যেন ঝুরঝুরে ও জল নিষ্কাশনযোগ্য হয়।
মাটি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন।
টবে জল জমতে দেবেন না।
গাছকে পর্যাপ্ত আলো ও সূর্যালোক দিন।
সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রা এড়িয়ে চলুন।
বাড়ির টবেই সহজে কাঁচা লঙ্কা গাছ তৈরি করা যায়। শুকনো পাকা লঙ্কার বীজ থেকেও চারা তৈরি সম্ভব। তবে ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজন ঝুরঝুরে মাটি, পর্যাপ্ত আলো, সঠিক জল এবং পরিমিত সার প্রয়োগ।













