বাঙালির ছোট ছুটির প্রথম পছন্দ যে এখনও দিঘাই, তা আবারও প্রমাণ হল জুনের শেষ সপ্তাহে। মহরম, শনিবার-রবিবার এবং স্নান পূর্ণিমার টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে সমুদ্র শহরে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। হোটেল থেকে রেস্তোরাঁ, স্থানীয় ব্যবসা থেকে পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই ফিরেছে ব্যস্ততা। বর্ষার মাঝেও দিঘার এই বিপুল ভিড় পর্যটন শিল্পে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
টানা ছুটির সুযোগে জমজমাট দিঘা
শুক্রবার থেকেই দিঘার সমুদ্র সৈকতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। মহরমের সরকারি ছুটি, তার সঙ্গে সপ্তাহান্ত এবং স্নান পূর্ণিমা মিলিয়ে একটানা চার দিনের অবকাশ পেয়ে বহু মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে দিঘার উদ্দেশে রওনা দেন। সমুদ্রের হাওয়া, মনোরম পরিবেশ এবং সহজ যাতায়াতের কারণে দিঘা আবারও পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
হোটেলে ঘর পেতে নাজেহাল পর্যটক
টানা ছুটির খবর মিলতেই আগেভাগেই বুক হয়ে যায় অধিকাংশ হোটেলের ঘর। ওল্ড দিঘা, নিউ দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরের বহু হোটেলে 'হাউসফুল' বোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। শেষ মুহূর্তে বেড়ানোর পরিকল্পনা করা বহু পর্যটককে ঘর খুঁজতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষাকালেও এমন বুকিং দীর্ঘদিন পর দেখা গেল।
জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ভিড় বাড়িয়েছে আকর্ষণ
দিঘার সমুদ্রের পাশাপাশি এখন অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে জগন্নাথ মন্দির। স্নান পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে বহু ভক্ত মন্দির দর্শনের জন্য দিঘায় পৌঁছেছেন। ফলে ধর্মীয় পর্যটন এবং সমুদ্র ভ্রমণ—দুইয়ের মেলবন্ধনে শহরের পর্যটন আরও গতি পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মন্দির চালু হওয়ার পর থেকেই বছরজুড়ে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চাঙ্গা স্থানীয় ব্যবসা, খুশি হোটেল মালিকেরা
পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মাছের বাজার, দোকানপাট এবং স্থানীয় পরিবহণ ব্যবস্থা। হোটেল মালিকদের দাবি, কয়েক দিনের এই ভিড় বর্ষার মন্দা কাটাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। শুধু থাকার ব্যবস্থা নয়, স্থানীয় খাবারের দোকান, হস্তশিল্পের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসাতেও বিক্রি বেড়েছে।
নিরাপত্তায় কড়া নজর প্রশাসনের
পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ার, সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস এবং আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার কারণে সমুদ্র সৈকতে লাইফগার্ড, সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিপজ্জনক সময়ে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং মাইকিং করে সচেতনও করা হচ্ছে।
বর্ষাতেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে দিঘা
শুধু শীত নয়, বর্ষাকালেও দিঘার জনপ্রিয়তা যে অটুট, তা ফের প্রমাণ করল এই ছুটির ভিড়। সমুদ্র, ধর্মীয় পর্যটন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বল্প বাজেটের ভ্রমণের সুবিধা—সব মিলিয়ে দিঘা এখনও বাঙালির অন্যতম প্রিয় উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। পর্যটকদের এই সাড়া আগামী দিনেও উপকূলের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহরম, সপ্তাহান্ত এবং স্নান পূর্ণিমার টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দিঘায় উপচে পড়েছে পর্যটকদের ভিড়। ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের অধিকাংশ হোটেল আগেই বুক হয়ে গিয়েছে। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি জগন্নাথ মন্দিরেও ভক্তদের ভিড় বেড়েছে। বাড়তি পর্যটকের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।













