শহরে রাস্তার নাম বা বাড়ির নম্বর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেলেও গ্রাম কিংবা প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক সময় সঠিক লোকেশন বোঝানো বেশ কঠিন। আবার নতুন জায়গায় কাউকে বাড়িতে আসতে বললেও ঠিকানা বুঝিয়ে বলতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এই ধরনের সমস্যা দূর করতে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। DIGIPIN-এর সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট লোকেশনের জন্য পাওয়া যায় ইউনিক ১০ অক্ষরের কোড। ফলে দীর্ঘ ঠিকানার বদলে এই কোড শেয়ার করেই নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

কী এই DIGIPIN?
DIGIPIN-এর পুরো অর্থ Digital Postal Index Number। এটি ভারতীয় ডাক বিভাগের একটি ডিজিটাল অ্যাড্রেসিং ব্যবস্থা। ডাক বিভাগ, IIT হায়দরাবাদ এবং ISRO-এর National Remote Sensing Centre (NRSC)-এর যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।এটি একটি গ্রিড-ভিত্তিক, জিও-কোডেড ও ওপেন-সোর্স ব্যবস্থা। ভারতের ভৌগোলিক এলাকাকে ছোট ছোট গ্রিডে ভাগ করে প্রতিটি প্রায় ৪ মিটার × ৪ মিটার এলাকার জন্য একটি ইউনিক ১০ অক্ষরের আলফানিউমেরিক কোড তৈরি করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে DIGIPIN?
কোনও নির্দিষ্ট জায়গার latitude এবং longitude অর্থাৎ অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের ভিত্তিতে DIGIPIN নির্ধারিত হয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট লোকেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল কোড পাওয়া যায়।তবে DIGIPIN চালু হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রচলিত ঠিকানা বা PIN Code আর ব্যবহার করা যাবে না। বরং এটি বর্তমান ঠিকানা এবং PIN Code-এর পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত ডিজিটাল লেয়ার হিসেবে কাজ করে।
নিজের বাড়ির DIGIPIN কীভাবে বের করবেন?
নিজের বাড়ির DIGIPIN জানা খুব কঠিন নয়। এর জন্য ভারতীয় ডাক বিভাগের DIGIPIN পরিষেবা ব্যবহার করা যায়।

ধাপে ধাপে পদ্ধতি:
ভারতীয় ডাক বিভাগের ‘আপনার DIGIPIN জানুন’ পরিষেবায় প্রবেশ করুন।আপনার ডিভাইসের লোকেশন অ্যাক্সেস করার অনুমতি দিন।লোকেশন শনাক্ত হওয়ার পর স্ক্রিনে আপনার বর্তমান জায়গার জন্য নির্ধারিত ১০ অক্ষরের DIGIPIN দেখা যাবে।লোকেশন পারমিশন দিতে না চাইলে latitude এবং longitude ম্যানুয়ালি দিয়েও DIGIPIN বের করা যায়।কোডটি পাওয়ার পর সেটি লিখে রাখতে বা প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে পারেন।একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনি যদি নিজের বাড়ির সঠিক DIGIPIN চান, তাহলে DIGIPIN বের করার সময় আপনার বাড়ির নির্দিষ্ট লোকেশনেই থাকা সবচেয়ে উপযুক্ত।
DIGIPIN অন্যকে কীভাবে শেয়ার করবেন?
নিজের DIGIPIN পাওয়ার পর সেটি প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধু, পরিচিত ব্যক্তি বা ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে শেয়ার করা যায়। এর সঙ্গে QR Code ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।DIGIPIN-এর সাহায্যে নির্দিষ্ট লোকেশন ম্যাপের মাধ্যমে খোলা সম্ভব হতে পারে। Google Maps কিংবা Mappls Maps-এর মতো ম্যাপিং পরিষেবার সাহায্যে লোকেশনে পৌঁছনোর কাজও সহজ হতে পারে।

পার্সেল ডেলিভারি থেকে জরুরি পরিষেবা—কোথায় কাজে আসবে?
DIGIPIN-এর ব্যবহার শুধু ব্যক্তিগত ঠিকানা শেয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডাক ও পার্সেল ডেলিভারি, ই-কমার্স এবং নেভিগেশনের মতো ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।বিশেষ করে যেসব এলাকায় বাড়ির নম্বর, রাস্তার নাম বা নির্দিষ্ট ঠিকানা বোঝানো কঠিন, সেখানে ডিজিটাল কোডের মাধ্যমে লোকেশন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।জরুরি পরিস্থিতিতেও এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, দমকল কিংবা উদ্ধারকারী দলের কাছে নির্দিষ্ট লোকেশন দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে DIGIPIN ভবিষ্যতে সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

বাড়ির ঠিকানা বোঝাতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়েন? বিশেষ করে রাস্তা বা বাড়ির নম্বর স্পষ্ট না থাকলে কাউকে নিজের লোকেশন বোঝানো বেশ কঠিন হয়ে যায়। এই সমস্যা সহজ করতে ভারতীয় ডাক বিভাগ চালু করেছে DIGIPIN ব্যবস্থা। দেশের প্রায় ৪ মিটার × ৪ মিটার এলাকার প্রতিটি গ্রিডকে একটি নির্দিষ্ট ১০ অক্ষরের আলফানিউমেরিক কোড দেওয়া হয়। জেনে নিন DIGIPIN কী এবং কীভাবে কয়েকটি সহজ ধাপে নিজের বাড়ির DIGIPIN বের করবেন।












