রুপোলি পর্দার পরিচিত মুখ, অথচ বাস্তব জীবনে ছিলেন নিখাদ পরিবারমুখী মানুষ। সেই দিলীপ রাজের হঠাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগী থেকে সহকর্মীরা। পরিবারের সঙ্গে রজত জয়ন্তীর প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে। কিন্তু তার আগেই চিরবিদায় নিলেন অভিনেতা-প্রযোজক। স্ত্রী বিদ্যা ও সন্তানদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার।
পরিবারই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি
কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন দিলীপ রাজ। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, ক্যামেরার বাইরের মানুষটি ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। পরিবারকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় বলে মনে করতেন।বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্ত্রী ও সন্তানদের নিজের “পুরো পৃথিবী” বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শ্যুটিং বা কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের জন্য সময় বের করতেন নিয়ম করে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি প্রায়ই নজর কাড়ত।
২৫তম বিবাহবার্ষিকীর আগেই নেমে এল শোক
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, খুব শীঘ্রই ছিল দিলীপ রাজ ও তাঁর স্ত্রী বিদ্যার বিবাহের ২৫ বছর পূর্তি। পরিবারে চলছিল রজত জয়ন্তীর প্রস্তুতি। ঘর সাজানো থেকে বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা—সবই প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু আচমকাই সেই আনন্দের আবহ বদলে গেল শোকে। যে বাড়িতে উৎসবের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই এখন শুধুই কান্না আর স্মৃতির ভার।
স্ত্রী বিদ্যাই ছিলেন তাঁর লড়াইয়ের সঙ্গী
দিলীপ রাজের স্ত্রী বিদ্যাও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁরা পরিচালনা করতেন নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা। দিলীপ বহুবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, বিদ্যার সহযোগিতা ছাড়া তাঁর পক্ষে এই যাত্রা সম্ভব হত না।তিনি জানিয়েছিলেন, কর্পোরেট সেক্টরে দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল বিদ্যার। বিশেষ করে মানুষকে বোঝা ও টিম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার প্রশংসা করতেন দিলীপ। প্রযোজনা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও বিদ্যার মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন তিনি।
হৃদরোগেই মৃত্যু, স্তব্ধ বিনোদন জগৎ
প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে দিলীপ রাজের। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কন্নড় চলচ্চিত্র জগত।সহ-অভিনেতা ও বন্ধুদের কথায়, দিলীপ ছিলেন অত্যন্ত হাসিখুশি ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ। তাঁর আচরণে কখনও তারকাসুলভ দূরত্ব ছিল না। সকলের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার গুণই তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
অনুরাগীদের চোখেও ‘ফ্যামিলি ম্যান’
দিলীপ রাজের জনপ্রিয়তা শুধু অভিনয়ের জন্যই ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। পরিবারকে আগলে রাখার তাঁর মানসিকতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ভক্তদের মন জিতে নিয়েছিল বহু আগেই।আজ তাঁর মৃত্যুর খবরে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে শোকবার্তা ভেসে আসছে। অনুরাগীদের একটাই আক্ষেপ—এত তাড়াতাড়ি কেন থেমে গেল একজন প্রাণবন্ত মানুষের জীবন?
কন্নড় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজের আকস্মিক মৃত্যুতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তিনি। কয়েকদিন পরেই ছিল তাঁর ও স্ত্রী বিদ্যার ২৫তম বিবাহবার্ষিকী। উদযাপনের প্রস্তুতির মাঝেই মৃত্যু যেন সব আনন্দ কেড়ে নিল এক মুহূর্তে।








