বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার মাঝেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা দিল কেন্দ্র সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—ভারতে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। অপরিশোধিত তেল থেকে এলপিজি, সব ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
![]()
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। বিশ্বের বহু দেশই তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি হয় পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
কত দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে দেশে?
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে Hardeep Singh Puri জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৯ দিনের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি এলপিজির মজুত রয়েছে প্রায় ৪৫ দিনের।তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
![]()
মোদীর বার্তা ঘিরে জল্পনা, ব্যাখ্যা কেন্দ্রের
সম্প্রতি Narendra Modi দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে আতঙ্কের বার্তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।
সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব যাতে ভারতের উপর কম পড়ে, তার জন্য আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রকের আধিকারিকদের যৌথ বৈঠকেও জানানো হয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি ও এলএনজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেই লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
![]()
রাজনৈতিক তরজাও শুরু
প্রধানমন্ত্রীর সংযমী ব্যবহারের বার্তাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আশঙ্কাতেই কেন্দ্র এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছে।তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
![]()
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাত ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী Hardeep Singh Puri জানিয়েছেন, ভারতে বর্তমানে ৬৯ দিনের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এবং প্রায় ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি সরকারের।











