Divorce Risk Study: বিয়ের ৭ বছরে নয়! এই সময়েই সবচেয়ে বেশি ডিভোর্সের ঝুঁকি, জানাল সমীক্ষা

বিয়ের কত বছরে সবচেয়ে বেশি ডিভোর্সের ঝুঁকি থাকে? নতুন গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেনে নিন কেন ৫-৮ বছর দাম্পত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে সম্পর্কে পুরনো ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনবেন।

"সেভেন ইয়ার ইচ" বা বিয়ের সাত বছরের সংকট—এই ধারণা বহুদিন ধরেই সমাজে প্রচলিত। অনেকেই মনে করেন, সাত বছর পার হলেই সম্পর্কে একঘেয়েমি ও অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং বিবাহিত জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়েই সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার মুখে পড়ে এবং তখনই বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

বিয়ের কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি ডিভোর্সের ঝুঁকি?

সাম্প্রতিক সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা ও জনসংখ্যাগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিয়ের ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যবর্তী সময়টিই দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অধ্যায়।গবেষকদের মতে, এই সময়েই বহু দম্পতি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। নতুন দায়িত্ব, সন্তান প্রতিপালন, পেশাগত চাপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছু একসঙ্গে এসে সম্পর্কের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

কেন ৫ থেকে ৮ বছর সময়টা এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের শুরুর দিকের রোমাঞ্চ ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের দায়িত্বে বদলে যায়। সংসার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমে যায়।এই পর্যায়ে ছোটখাটো মতবিরোধ, অপূর্ণ প্রত্যাশা এবং একে অপরকে সময় না দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে। দীর্ঘদিন অবহেলা চলতে থাকলে তা বড় সমস্যার রূপ নিতে পারে।

সম্পর্ক ভাঙে বড় কারণে নয়, ছোট ছোট অবহেলায়

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অধিকাংশ সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যায় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অবহেলা, যোগাযোগের ঘাটতি এবং আবেগগত দূরত্ব ধীরে ধীরে সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়।একটি ‘ধন্যবাদ’ না বলা, সঙ্গীর কথা মন দিয়ে না শোনা বা ব্যস্ততার অজুহাতে সময় না দেওয়া—এমন ছোট ছোট বিষয়ই সময়ের সঙ্গে বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে সম্পর্কে পুরনো আবেগ ফিরিয়ে আনবেন?

প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু সঙ্গীর জন্য রাখুনব্যস্ত জীবনের মধ্যেও প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট একে অপরের সঙ্গে নির্ভারভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, একসঙ্গে হাঁটা বা চা খাওয়ার মতো সাধারণ মুহূর্তও সম্পর্ককে গভীর করতে সাহায্য করে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন

অনেকেই মনে করেন, ভালোবাসা প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই, সঙ্গী নিজেই তা বুঝবেন। কিন্তু বাস্তবে ছোট ছোট প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশ সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তোলে।ধন্যবাদ", "তুমি পাশে আছো বলে ভালো লাগে"—এ ধরনের কথাগুলি আবেগের বন্ধনকে শক্তিশালী করতে পারে।

মতবিরোধ হলেও সম্মান বজায় রাখুন

প্রতিটি সম্পর্কেই মতের অমিল থাকবে। কিন্তু তর্ক কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হওয়া উচিত নয়। মতভেদ থাকলেও সঙ্গীর প্রতি সম্মান বজায় রাখা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মান হারিয়ে গেলে ভালোবাসাও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

যোগাযোগই সুখী দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি

গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে, সম্পর্কের বয়স যতই হোক না কেন, নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যত্ন থাকলে অধিকাংশ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।বিয়ের পাঁচ বছর, সাত বছর বা দশ বছর—কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যাই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক আচরণই দাম্পত্যকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী করে তুলতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা, বিয়ের সাত বছর পর সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে। তবে নতুন গবেষণা বলছে, ডিভোর্সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে বিয়ের ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে। এই সময় সন্তান, আর্থিক চাপ, কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু সহজ অভ্যাসেই সম্পর্কের হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Leave a comment