অপেক্ষার অবসান। বর্ষার মরশুমে তিন মাস বন্ধ থাকার পর ফের পর্যটকদের জন্য খুলে গেল ডুয়ার্সের জঙ্গলের দরজা। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জলদাপাড়া, বক্সা, চিলাপাতা-সহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে শুরু হয়েছে পর্যটকদের প্রবেশ ও জঙ্গল সাফারি। একইসঙ্গে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের জনপ্রিয় ওয়াচ-টাওয়ারগুলিতেও ফের শুরু হয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। পুজোর মরশুমে ডুয়ার্স যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই জেনে নিন সাফারির সম্ভাব্য খরচ।
কেন তিন মাস বন্ধ ছিল জঙ্গল?
বর্ষার সময় বন্যপ্রাণীদের প্রজনন পর্বকে মাথায় রেখে সাধারণত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গল পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে মানুষের উপস্থিতি যাতে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটায়, সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা।তিন মাসের বিরতির পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফের জঙ্গলে ঢোকার সুযোগ পেয়েছেন পর্যটকরা। নতুন মরশুম শুরু হতেই বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়ও দেখা গিয়েছে।
যাত্রাপ্রসাদ ওয়াচ-টাওয়ারের জিপসি ভাড়া
গরুমারার অন্যতম পরিচিত যাত্রাপ্রসাদ ওয়াচ-টাওয়ার। এখানে সল্টপিট থাকায় হাতি ও একশৃঙ্গ গণ্ডার-সহ বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ থাকে।লাটাগুড়ি থেকে সর্বোচ্চ ৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রাপ্রসাদ যাওয়ার নির্ধারিত জিপসি ভাড়া ১,৩৩০ টাকা।
মেদলা ওয়াচ-টাওয়ার
জঙ্গল সাফারির পাশাপাশি অন্যরকম অভিজ্ঞতা পেতে পর্যটকদের পছন্দের জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে মেদলা ওয়াচ-টাওয়ার। জঙ্গলের পথ, মূর্তি নদীর পরিবেশ এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার ছোঁয়া এই সফরকে আলাদা করে তোলে।লাটাগুড়ি থেকে মেদলা ওয়াচ-টাওয়ারে যাওয়ার জিপসি ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে ১,৩৩০ টাকা।
চুকচুকি ওয়াচ-টাওয়ারে সবচেয়ে কম খরচ
পাখিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের জায়গা চুকচুকি ওয়াচ-টাওয়ার। জলাশয় ঘেরা এই এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যেতে পারে। শরৎকালে পরিযায়ী পাখির আনাগোনাও এই জায়গার আকর্ষণ বাড়ায়।লাটাগুড়ি থেকে চুকচুকি যাওয়ার জন্য নির্ধারিত জিপসি ভাড়া ৯৬০ টাকা।
চন্দ্রচূড় বা রাইনো পয়েন্ট
গণ্ডার দেখার আশায় যারা গরুমারায় যান, তাঁদের কাছে চন্দ্রচূড় বা রাইনো পয়েন্ট বিশেষ আকর্ষণীয়। বিস্তীর্ণ ঘাসজমি ও চারণভূমির কারণে এখানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা থাকে।লাটাগুড়ি থেকে চন্দ্রচূড় ওয়াচ-টাওয়ারের জিপসি ভাড়া ১,৩৭০ টাকা।
চাপড়ামারি যেতে খরচ কত?
ঘন সবুজ অরণ্যে ঘেরা চাপড়ামারি ওয়াচ-টাওয়ার-ও পর্যটকদের অন্যতম পছন্দ। হাতি, হরিণ, ময়ূর-সহ নানা বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ রয়েছে এই এলাকায়।লাটাগুড়ি থেকে চাপড়ামারি যাওয়ার জন্য ৬ জন পর্যটক নিয়ে একটি জিপসির নির্ধারিত ভাড়া ১,৫৩০ টাকা।
এক নজরে জিপসি ভাড়া
ওয়াচ-টাওয়ার জিপসি ভাড়া সর্বোচ্চ পর্যটক
চুকচুকি ₹৯৬০ —
যাত্রাপ্রসাদ ₹১,৩৩০ ৬ জন
মেদলা ₹১,৩৩০ —
চন্দ্রচূড়/রাইনো পয়েন্ট ₹১,৩৭০ —
চাপড়ামারি ₹১,৫৩০ ৬ জন
পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য সুখবর
জঙ্গল খোলার সঙ্গে সঙ্গে ফের চালু হয়েছে সরকারি বনবাংলোগুলির অনলাইন বুকিং ব্যবস্থাও। পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গরুমারায় আরও দু’টি কুনকি হাতি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত আগের নির্ধারিত এন্ট্রি ফিই কার্যকর থাকবে। ভবিষ্যতে এই ফিতে পরিবর্তন হতে পারে।
বর্ষার কারণে প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য ফের খুলেছে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গল ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। গরুমারা-সহ একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে জঙ্গল সাফারি। পুজোর ছুটিতে যাওয়ার আগে দেখে নিন গরুমারার বিভিন্ন ওয়াচ-টাওয়ারে যেতে নির্ধারিত জিপসি ভাড়া।













