DRDO ওডিশায় পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার পাল্লার সফল ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে

DRDO ওডিশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের সফল ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, পরীক্ষায় রকেটটি ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার নির্ধারিত পাল্লা, পূর্বনির্ধারিত ম্যানুভার এবং লক্ষ্যভেদের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করেছে।

বাংলাদেশ নয়, ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) বুধবার ওডিশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এ পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট (LRGR)-এর সফল ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রকেটটির ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার নির্ধারিত পাল্লার মূল্যায়ন করা।

DRDO-র তৈরি পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের পরীক্ষা ওডিশার চাঁদিপুরস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষায় রকেটটি সমস্ত নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাকালে রকেটটি ন্যূনতম নির্ধারিত ৬০ কিলোমিটার পাল্লায় সফলভাবে উড্ডয়ন করে এবং পূর্বনির্ধারিত সমস্ত ম্যানুভার সম্পন্ন করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করে।

পরীক্ষার সময় আধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম, রাডার এবং টেলিমেট্রি যন্ত্রের মাধ্যমে রকেটটির সম্পূর্ণ উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রকেটটি নির্ধারিত উড্ডয়ন পথ সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করে এবং প্রত্যাশিত কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যের জন্য DRDO, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই অর্জন ভারতের স্বদেশি নকশা, গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ভারতকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এর ফলে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা রপ্তানির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

DRDO ওডিশায় পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার পাল্লার সফল ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই রকেটটির উন্নয়নে DRDO-র একাধিক গবেষণাগার যৌথভাবে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL), আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (ARDE), ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL) এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI)।

এসব প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এমন একটি গাইডেন্স প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা রকেটটিকে দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম করে।

পরীক্ষায় রকেটটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ইতিমধ্যে ব্যবহৃত পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীকে আলাদা লঞ্চিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে না।

একই লঞ্চার থেকে পিনাকার বিভিন্ন পাল্লার সংস্করণ ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যার ফলে সেনাবাহিনীর পরিচালন সক্ষমতা এবং লজিস্টিক দক্ষতা উভয়েরই উন্নতি হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, DRDO-র চেয়ারম্যান এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সচিব রাজেশ কুমার সিং ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তদারকি করেন। তিনি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিকা পালন করেন।

এটি পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের প্রথম পরীক্ষা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে DRDO একই ব্যবস্থার প্রথম সফল পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল, যেখানে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত রকেটটির সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়। সর্বশেষ পরীক্ষায় পৃথক পরিচালনগত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে এর নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই ব্যবস্থা বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নমনীয়ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

Leave a comment