দুর্গাপুজো মানেই শুধু দেবী দর্শন আর আলোর রোশনাই নয়, মণ্ডপে মণ্ডপে নতুন ভাবনা ও শিল্পের প্রকাশও। সেই আবহেই ২০২৬ সালের শারদোৎসবে নতুন সাজে সেজে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী শহর বসিরহাট। কলকাতা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে ইছামতির তীরে এই শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের থিম। কোথাও দেশপ্রেমের আবেগ, কোথাও ধর্মীয় অনুভূতি, আবার কোথাও বাস্তব জীবনের মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরে দর্শকদের ভাবিয়ে তুলছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে বদরতলার পুজোয় নেপালের দুর্ঘটনার স্মৃতি ঘিরে তৈরি উপস্থাপনা নজর কাড়ছে।
![]()
ইছামতির তীরে উৎসবের রঙে সেজেছে বসিরহাট
ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবহে সমৃদ্ধ বসিরহাটে দুর্গাপুজো ঘিরে প্রতি বছরই উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে একাধিক আকর্ষণীয় মণ্ডপ। আলোকসজ্জা, প্রতিমার বৈচিত্র্য ও শিল্পসম্মত সাজে পুজোর দিনগুলিতে অন্য রূপ পেয়েছে শহরের অলিগলি।
সন্ধ্যা নামতেই আলোয় ঝলমল করে উঠছে পুজো প্রাঙ্গণ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। তবে এবারের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ শুধু সাজসজ্জায় নয়, থিমের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাতেও।
কোথাও দেশপ্রেম, কোথাও ধর্মীয় ভাবনার প্রকাশ
বসিরহাটের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনার প্রতিফলন। কোনও মণ্ডপে দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। আবার কোথাও মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার পরিকল্পনায় প্রাধান্য পেয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি এবং আধ্যাত্মিকতা।
এই বৈচিত্র্যের ফলে দর্শনার্থীরা শুধু প্রতিমা দেখেই ফিরছেন না, মণ্ডপের শিল্পকর্ম ও তার অন্তর্নিহিত ভাবনাও দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী পুজোর আবহের সঙ্গে আধুনিক থিমের সংযোগ এবারের শারদোৎসবকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
বদরতলার মণ্ডপে নেপালের দুর্ঘটনার মর্মান্তিক স্মৃতি
এবার বসিরহাটের বদরতলা এলাকার পুজোয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে নেপালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ। মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি ও দৃশ্য তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা।
উৎসবের আনন্দের মাঝেও এমন একটি বেদনাদায়ক ঘটনাকে থিমের অংশ করে মানুষের সামনে আনার পিছনে রয়েছে স্মরণ, সহমর্মিতা ও সচেতনতার বার্তা। এই উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের কাছে পুজো মণ্ডপকে শুধুমাত্র বিনোদন বা প্রতিমা দর্শনের জায়গা হিসেবে নয়, সামাজিক ভাবনা প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও তুলে ধরছে।
![]()
শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, থিমেও রয়েছে বার্তা
দুর্গাপুজোর থিম এখন মণ্ডপসজ্জার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের নানা বিষয় তুলে ধরার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বসিরহাটের পুজোতেও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশপ্রেম, ধর্মীয় আবেগ এবং সমসাময়িক ঘটনার পাশাপাশি মানুষের অনুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলি বিভিন্ন মণ্ডপের ভাবনায় জায়গা পেয়েছে।
ফলে দর্শনার্থীদের সামনে খুলে যাচ্ছে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি। কোনও থিম মনে করিয়ে দিচ্ছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা, আবার কোনওটি বর্তমান সময়ের ঘটনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করছে।
কলকাতার কাছেই পুজোর নতুন আকর্ষণ বসিরহাট
কলকাতা থেকে তুলনামূলক কম সময়ে পৌঁছনো যায় বসিরহাটে। ইছামতির তীরের এই শহরে দুর্গাপুজোর আবহে যেমন রয়েছে সাবেকি ঐতিহ্য ও ভক্তির টান, তেমনই রয়েছে আধুনিক শিল্পভাবনা ও সামাজিক বার্তার মেলবন্ধন।রঙিন আলোকসজ্জা, নান্দনিক মণ্ডপ এবং বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা নিয়ে এবারের পুজোয় দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতার মতো বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি থিমগুলি উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অন্য ভাবনারও অবকাশ করে দিচ্ছে।
![]()
দুর্গাপুজোয় আলো, রং ও থিমের বৈচিত্র্যে সেজে উঠেছে ইছামতির তীরের বসিরহাট। কোথাও মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা, কোথাও রয়েছে ধর্মীয় ভাবনা ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। আবার বদরতলা এলাকার একটি পুজো মণ্ডপে নেপালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক স্মৃতি তুলে ধরে সামাজিক সচেতনতা ও সহমর্মিতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও সমসাময়িক ঘটনাকে ঘিরে নানা ভাবনার মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বসিরহাটের শারদোৎসব।











