Durga Puja 2026: অষ্টমীতে ড্রাই ডে, তবুও পুজোয় মদ বিক্রি ৫২ কোটি টাকা ছাড়াল! পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙল গত বছরের রেকর্ড

দুর্গাপুজো ২০২৬-এ পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রি ৫২.৭১ কোটি টাকা। অষ্টমীতে ড্রাই ডে সত্ত্বেও বিদেশি মদ, দেশি মদ ও বিয়ারের বিক্রি বেড়েছে।

দুর্গাপুজো মানেই উৎসব, আনন্দ আর ঠাকুর দেখার ধুম। কিন্তু উৎসবের মরশুমে পূর্ব মেদিনীপুরের আরেকটি পরিসংখ্যান এবার নজর কেড়েছে। অষ্টমীর দিন ছিল ড্রাই ডে, বন্ধ ছিল মদের দোকান। তা সত্ত্বেও পুজোর কয়েক দিনে জেলায় মদ বিক্রির অঙ্ক পৌঁছে গেল ৫২ কোটি টাকারও বেশি। গত বছরের তুলনায় বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।

Durga Puja 2026: অষ্টমীতে ড্রাই ডে, তবুও পুজোয় মদ বিক্রি ৫২ কোটি টাকা ছাড়াল! পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙল গত বছরের রেকর্ডপঞ্চমী থেকে দশমী, মদ বিক্রি ৫২.৭১ কোটি টাকা

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রির পরিমাণ এবার নতুন নজির গড়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা আবগারি দফতরের প্রাথমিক হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার।

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত জেলায় মদ বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। এবার এক দিন বেশি ধরে হিসাব করা হলেও মোট বিক্রির অঙ্কে বড়সড় বৃদ্ধি নজরে এসেছে। সেই কারণেই পুজোর মরশুমের এই পরিসংখ্যান বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

অষ্টমীতে ড্রাই ডে, তবুও বাড়ল বিক্রি

পুজোর অষ্টমীর দিন ড্রাই ডে থাকায় জেলার মদের দোকানগুলি বন্ধ ছিল। ফলে ওই দিন বৈধভাবে দোকান থেকে মদ বিক্রির সুযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট বিক্রির অঙ্ক ৫২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অষ্টমীতে দোকান বন্ধ না থাকলে বিক্রির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারত। এমনকি ৬০ কোটি টাকা ছাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে সেটি সম্ভাব্য হিসাব, প্রকৃত বিক্রির অঙ্ক নয়। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাস্তবে বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা।

বিদেশি মদ থেকে বিয়ার, সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি

শুধু মোট বিক্রির অঙ্ক নয়, বিভিন্ন ধরনের মদের বিক্রিতেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর বিক্রির পরিসংখ্যান তুলনা করলে সেই ছবিই সামনে আসে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পুজোয় বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার লিটার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ১৩ হাজার লিটারে।

দেশি মদের বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছর প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার।

অন্যদিকে, বিয়ারের বিক্রি ৩ লক্ষ ১০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ২৪ হাজার লিটার। অর্থাৎ, বিদেশি মদ ও দেশি মদের পাশাপাশি বিয়ারের বিক্রিতেও বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

Durga Puja 2026: অষ্টমীতে ড্রাই ডে, তবুও পুজোয় মদ বিক্রি ৫২ কোটি টাকা ছাড়াল! পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙল গত বছরের রেকর্ডদিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের পর্যটকেরা কি বড় কারণ?

পূর্ব মেদিনীপুরের মদ বিক্রির এই পরিসংখ্যানের পিছনে পর্যটন শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জেলার শিক্ষাবিদদের একাংশ। দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের মতো জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত থাকায় সারা বছরই জেলায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।

দুর্গাপুজোর ছুটিতে শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেই নয়, ভিন্‌রাজ্য থেকেও বহু পর্যটক এই সমস্ত পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসেন। ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ, বার এবং পর্যটনকেন্দ্র সংলগ্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোলাঘাট থেকে দিঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়কের পাশে থাকা মদের দোকান ও বারগুলিতে পুজোর মরশুমে উল্লেখযোগ্য কেনাবেচা হয়। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতি জেলার সামগ্রিক বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সারা বছরই আলোচনায় পূর্ব মেদিনীপুর

পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটনকেন্দ্রগুলি রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে দিঘাকে কেন্দ্র করে হোটেল, রেস্তরাঁ, পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।

উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে। মদ বিক্রির পরিসংখ্যানেও সেই প্রভাবের প্রতিফলন থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। যদিও বিক্রি বৃদ্ধির পেছনে পর্যটকদের অবদান কতটা, তা নির্দিষ্টভাবে জানতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

Durga Puja 2026: অষ্টমীতে ড্রাই ডে, তবুও পুজোয় মদ বিক্রি ৫২ কোটি টাকা ছাড়াল! পূর্ব মেদিনীপুরে ভাঙল গত বছরের রেকর্ডদুর্গাপুজো ২০২৬-এ মদ বিক্রির পরিসংখ্যানে নতুন রেকর্ড গড়ল পূর্ব মেদিনীপুর। জেলা আবগারি দফতরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত জেলায় মদ বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। গত বছর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। অষ্টমীর দিন ড্রাই ডে থাকলেও বিদেশি মদ, দেশি মদ এবং বিয়ারের বিক্রি বেড়েছে। দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের ভিড় এই বিক্রির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন জেলার শিক্ষাবিদদের একাংশ।

Leave a comment