মোটে ৯৮ কিলোমিটার দূরে উপকেন্দ্র, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে উৎস—এই দু’য়ের মিলিত প্রভাবে শুক্রবারের ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে থরথর করে কেঁপে উঠল কলকাতা। প্রায় ১১ সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন আতঙ্ক ছড়াল শহর থেকে জেলায়। তথ্য জানিয়েছে National Center for Seismology।
কোথায় ছিল উপকেন্দ্র?
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্তের Satkhira জেলায়। এত কাছাকাছি উৎস এবং অগভীর গভীরতা—এই কারণেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
টেকটনিক ‘টাইম বোমা’ তত্ত্ব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Columbia University-এর ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্ট্যাকলার বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন—বাংলাদেশ একটি ‘টেকটনিক টাইম বোমা’র উপর বসে। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা টেকটনিক প্লেটের মিলনস্থলে বিশাল ‘লকড মেগাথ্রাস্ট ফল্ট’ লুকিয়ে রয়েছে। প্লেটগুলির পারস্পরিক সংঘর্ষই বড় ভূমিকম্পের জন্ম দেয়।
‘হিডেন ফল্টলাইন’-এর বিপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভূগর্ভে একাধিক লুকোনো চ্যুতিরেখা বা ‘হিডেন ফল্টলাইন’ রয়েছে—ডাউকি, মধুপুর ও আসাম-সিলেট ফল্ট তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা প্রায় ১৮ কিলোমিটার পুরু পলির স্তর এই ফল্টলাইনগুলিকে ঢেকে রেখেছে। ফলে সেগুলির সঠিক মানচিত্রায়ন কঠিন, কিন্তু বিপদ সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে।
কলকাতা কি নিরাপদ?
Kolkata সরাসরি বড় ফল্টলাইনের উপর না থাকলেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। সিসমিক জ়োন মানচিত্র অনুযায়ী উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জ়োন ফোরে এবং কলকাতা জ়োন থ্রিতে পড়ে। ফলে মাঝারি কম্পনও এখানে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
পলিমাটির ‘লিকুইফ্যাকশন’ প্রভাব
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার পুরু পলিমাটির স্তরের উপর অবস্থিত। ভূমিকম্প হলে এই মাটি তরলের মতো আচরণ করে—যাকে ‘লিকুইফ্যাকশন’ বলা হয়। ফলে কম্পনের তরঙ্গ বহুগুণ বাড়ে। বিশেষত সল্টলেক অঞ্চল একটি ‘হিঞ্জ জ়োন’-এর উপর হওয়ায় সেখানে ঝুঁকি আরও বেশি।
শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। উপকেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমাটির পুরু স্তর ও ‘হিডেন ফল্টলাইন’-এর উপস্থিতি ভবিষ্যতে বড় কম্পনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।










