গভীর রাতে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে, তখনই মাটি কেঁপে ওঠায় আতঙ্ক ছড়ায় ভারতের একাধিক এলাকায়। মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে জম্মু-কাশ্মীর এবং সিকিমে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। একই সময়ে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও একাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা NCS-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনগুলির মাত্রা ছিল ভিন্ন। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের কোথায় কত মাত্রার ভূমিকম্প?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের দুটি জায়গায় কম্পন রেকর্ড হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর: রাত প্রায় ১টা ৫৪ মিনিটে কিশতওয়ার এলাকায় ২.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সিকিম: এর কিছুক্ষণ আগে রাত ১টা ৪৮ মিনিটে মাঙ্গান এলাকায় ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
এই দুই কম্পনের পর এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসেনি।
আফগানিস্তানেও পরপর কম্পন
ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তানেও একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। NCS-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটি রাত ১টা ৬ মিনিট নাগাদ রেকর্ড হয়।
এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৩২ কিলোমিটার গভীরে।
এরপরও আফগানিস্তানে আরও কয়েকটি কম্পন অনুভূত হয়।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি রাত ৩টা ১৪ মিনিটে রেকর্ড হয়। এর মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং গভীরতা প্রায় ১২৭ কিলোমিটার। এর কেন্দ্রস্থল ফয়জাবাদ থেকে প্রায় ৯৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বলে জানানো হয়েছে।এর কিছুক্ষণ পর রাত ৩টা ৩১ মিনিটে আরও একটি ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। এর অবস্থান কাবুলের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পূর্বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাঝরাতে কম্পনে আতঙ্ক
রাতের দিকে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক কম্পনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কও তৈরি হয়।তবে কম্পনের খবর পাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সংস্থা ও প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট মাত্রার ভূমিকম্পে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নাও হতে পারে, যদিও কোনও ভূমিকম্পের প্রভাব নির্ভর করে তার মাত্রা, গভীরতা, কেন্দ্রস্থল এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর।
নেপালে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ভূকম্পন
এই ভূকম্পনের খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রতিবেশী নেপাল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে। প্রবল বন্যা ও আকস্মিক বন্যার কারণে দেশটির একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশেষ করে নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে। বন্যায় বিপুল প্রাণহানির কথাও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।তবে নেপালের বন্যা পরিস্থিতিএবং ভারতের এই ভূমিকম্পগুলির মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারত ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারে ২.৪ মাত্রা এবং সিকিমের মাঙ্গানে ৩.৯ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে আফগানিস্তানেও পরপর কয়েকটি ভূমিকম্প হয়। এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।










