দোকান থেকে পণ্য কিনে ঠকেছেন? অনলাইন অর্ডারে ভুল বা নিম্নমানের জিনিস পেয়েছেন? কিংবা টাকা দেওয়ার পরও পরিষেবা মিলছে না? এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই কোথায় অভিযোগ করবেন, তা বুঝতে পারেন না। সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতেই ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হচ্ছে ‘উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ’। এই সময়ে ক্রেতাদের বিল-রসিদ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
কী কী ক্ষেত্রে অভিযোগ করতে পারবেন?
পণ্য বা পরিষেবা নেওয়ার পর একাধিক ধরনের সমস্যায় উপভোক্তা আইনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। যেমন—
নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পাওয়া
নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া
টাকা দেওয়ার পর প্রতিশ্রুত পরিষেবা না পাওয়া
ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া
অনলাইন কেনাকাটায় ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পাওয়া
ই-কমার্স বা ডেলিভারি সংক্রান্ত সমস্যায় পড়া
তবে অভিযোগ করার আগে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের প্রমাণপত্র হাতে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেনাকাটার সময় এই নথিগুলি অবশ্যই রাখুন
উপভোক্তা অধিকার নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচিতে ক্রেতাদের বিশেষভাবে বিল, রসিদ বা ক্যাশমেমো সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পণ্য কেনার সময় শুধু দাম দেখলেই হবে না। প্যাকেটজাত সামগ্রী হলে MRP, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখে নেওয়া জরুরি।
বৈদ্যুতিক সামগ্রী, সোনা, ওজনযন্ত্র কিংবা প্যাকেটজাত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মানচিহ্ন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সমস্যা হলে প্রথমে কোথায় অভিযোগ করবেন?
কোনও পণ্য বা পরিষেবা নিয়ে সমস্যা হলে সরাসরি আদালত বা কমিশনে যাওয়ার আগে প্রথমে বিক্রেতা অথবা পরিষেবা প্রদানকারীর কাছে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।সেখানে সমস্যার সমাধান না হলে উপভোক্তা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। অনলাইন কেনাকাটা, ই-কমার্স বা ডেলিভারি সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে কোন কমিশনে?
অভিযোগের আর্থিক মূল্য অনুযায়ী আলাদা উপভোক্তা কমিশনে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত:
পণ্য বা পরিষেবার জন্য প্রদত্ত অর্থের মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে জেলা স্তরের District Consumer Disputes Redressal Commission (DCDRC)-এ অভিযোগ করা যায়।
৫০ লক্ষের বেশি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত:
এই সীমার অভিযোগ State Consumer Disputes Redressal Commission (SCDRC)-এ করা যায়।
২ কোটির বেশি:
অভিযোগের মূল্য ২ কোটির বেশি হলে National Consumer Disputes Redressal Commission (NCDRC)-এর দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ প্রতারণা বা পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার অঙ্ক বেশি হলেও উপভোক্তার অভিযোগ জানানোর আইনি পথ রয়েছে।
অনলাইনে কীভাবে সাহায্য পাবেন?
উপভোক্তা সংক্রান্ত অভিযোগ ও সহায়তার জন্য অনলাইনে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া যায়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের উপভোক্তারা wbconsumers.gov.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এছাড়াও সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছে—
রাজ্য টোল-ফ্রি নম্বর: ১৮০০ ৩৪৫ ২৮০৮
জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন: ১৯১৫
অভিযোগ জানানোর আগে বিল, পেমেন্টের প্রমাণ, অর্ডারের বিবরণ, ওয়ারেন্টি কার্ড বা সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য গুছিয়ে রাখলে বিষয়টি উপস্থাপন করা সহজ হতে পারে।
সরকারি পরিষেবা নিয়েও সমস্যা হলে?
শুধু দোকান বা বেসরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার জন্যও সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।তাই কোনও পরিষেবা বা পণ্য নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে বিষয়টি ফেলে না রেখে প্রথমে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
কেনাকাটার পর নিম্নমানের পণ্য, বেশি দাম নেওয়া, পরিষেবা না পাওয়া কিংবা ওয়ারেন্টি নিয়ে সমস্যা হলে চুপ করে থাকার প্রয়োজন নেই। উপভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া যায়। অভিযোগের আর্থিক মূল্য অনুযায়ী জেলা, রাজ্য বা জাতীয় কমিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।










