মালদাবাসীর দীর্ঘদিনের বিমান পরিষেবার দাবি কি এবার বাস্তব রূপ পেতে চলেছে? সেই সম্ভাবনাই নতুন করে জোরালো হচ্ছে। বুধবার মালদা বিমানবন্দরে পৌঁছে পরিকাঠামোর বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বিমান পরিষেবা চালুর জন্য কতটা প্রস্তুতি হয়েছে এবং আর কী কী কাজ বাকি, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়।
‘উড়ান’ প্রকল্পে ফের শুরু তৎপরতা
মালদা উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ থাকলেও কলকাতা কিংবা দেশের অন্যান্য বড় শহরে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিমান পরিষেবার অভাব দীর্ঘদিনের।কয়েক বছর আগেও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় মালদা বিমানবন্দরকে কাজে লাগিয়ে বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেইপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার ফের পরিকাঠামো তৈরির কাজ ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় আশাবাদী জেলার বাসিন্দারা।
বিমানবন্দরে কী কী খতিয়ে দেখা হল?
পরিদর্শনের সময় বিমান পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিকাঠামো নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিধায়ক।
বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়—
বিমান পরিষেবার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো
যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিকাঠামো
অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ
ইতিমধ্যে সম্পন্ন কাজ এবং বাকি থাকা কাজ
দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘দ্রুত পরিষেবা চালুর চেষ্টা চলছে’, বললেন বিধায়ক
পরিদর্শন শেষে অম্লান ভাদুড়ি জানান, বিমান পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কতটা কাজ এগিয়েছে এবং আর কী কী কাজ সম্পন্ন করা দরকার, তা প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে দেখা হয়েছে।তিনি আরও জানান, পরিষেবা দ্রুত চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি পরিবহণ দফতরের বৈঠকেও উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
বিমান চালু হলে কী লাভ মালদার?
মালদা থেকে বিমান পরিষেবা শুরু হলে শুধু যাত্রী যোগাযোগই সহজ হবে না, জেলার অর্থনীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে—
ব্যবসা-বাণিজ্য: কলকাতা ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে পারে।
পর্যটন: মালদার ঐতিহাসিক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বাইরের জেলার পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।
চিকিৎসা পরিষেবা: জরুরি প্রয়োজনে কলকাতা বা অন্য বড় শহরে দ্রুত পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: দীর্ঘ সময়ের রেল বা সড়কযাত্রার বিকল্প হিসেবে বিমান পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখন নজর কবে চালু হবে বিমান পরিষেবা
পরিকাঠামো পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হলেও ঠিক কবে থেকে নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে মালদাবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান কবে হবে, সেদিকেই এখন নজর।কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই স্তরে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ কত দ্রুত এগোয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে মালদা বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর মালদায় ফের বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগে গতি এসেছে। ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রী পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং বাকি কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।











