পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি ছোট গ্রামে বসবাসকারী ব্যবসায়ী সনৎ কুমার মণ্ডল গত ১০ বছর ধরে নিজের উদ্যোগে চুপি পাখিরালয় থেকে পারুলিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করে চলেছেন। প্রতিদিন ভোর ৩টে থেকে শুরু হয় তাঁর কাজ। পরিবার ও সমাজের সমালোচনার মুখে পড়লেও থামেননি তিনি। East Bardhaman News: এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও মানুষকে পরিবেশ সচেতন করার উদ্দেশ্যেই এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সনৎ বাবু।

ভোরের অন্ধকারেই শুরু হয় তাঁর নীরব লড়াই
সনৎ কুমার মণ্ডল যখন হাতে ঝাঁটা তুলে বেরিয়ে পড়েন, তখনও গ্রাম ঘুমে আচ্ছন্ন। প্রতিদিন একই সময়ে ভোর ৩টেয় শুরু হয় তাঁর পরিচ্ছন্নতার অভিযান।চুপি পাখিরালয় থেকে পারুলিয়া পর্যন্ত মন্দির, মসজিদ, পার্টি অফিস থেকে জনবহুল রাস্তা—কোনো জায়গাই বাদ দেন না তিনি। একাই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তা ধাপে ধাপে ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করেন।এই নিয়মিত পরিশ্রম তাঁকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে এবং এলাকাও থাকে পরিচ্ছন্ন। সনৎবাবুর ভাষায়, এটি তাঁর দৈনিক "শরীরচর্চা ও সমাজসেবা—দু'য়ের মিলিত পথ"।
কেন নিলেন এত বড় দায়িত্ব? জানালেন নিজেই
সনৎ মণ্ডল পেশায় ব্যবসায়ী। দিনভর বসে থাকার কারণে শরীরচর্চার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন তিনি। তবে স্রেফ ব্যায়াম নয়—সমাজের উপকারের সঙ্গে যুক্ত এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন।সেই ইচ্ছাই তাঁকে রাস্তায়-রাস্তায় ঝাঁট দেওয়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের জীবনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

সমালোচনা, কটূক্তি, বাধা—তবুও থামেননি সনৎ
২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর এই পথচলা। তবে শুরুটা সহজ ছিল না।পরিবারের আপত্তি, প্রতিবেশীদের হাসাহাসি, নানা কটূক্তি—সবই শুনতে হয়েছে তাঁকে। অনেকেই বলেছিলেন—“ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে বেরিয়েছ!”কিন্তু লক্ষ্যে অটল সনৎ কোনও দিনই পিছিয়ে যাননি। নিজের বিশ্বাস, নিজের লক্ষ্যই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এখন কুর্নিশ জানাচ্ছে এলাকা—গর্ব পরিবারেরও
আজ ছবিটা পুরো বদলে গেছে।যে পরিবার একসময় তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, এখন তাঁর জন্য গর্ববোধ করে।এলাকাবাসীর বহু মানুষ নিয়মিত তাঁকে ধন্যবাদ জানান, অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।সনৎ কুমার মণ্ডল শুধু রাস্তাই পরিষ্কার রাখেন না—মানুষের মন থেকেও মুছে দেন উদাসীনতা ও পরিবেশবিরোধী মানসিকতার আবর্জনা।তাঁর কাজ সমাজের সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পূর্ব বর্ধমানের চুপি-পারুলিয়া এলাকায় গত এক দশক ধরে বিনা পারিশ্রমিকে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছেন ব্যবসায়ী সনৎ কুমার মণ্ডল। ভোর ৩টে থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই উদ্যোগ আজ এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণা। সমাজসেবার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। সমালোচনা পেরিয়ে এখন তিনি এলাকায় আদর্শ ব্যক্তিত্ব।










