না জানিয়ে তিন শীর্ষ আধিকারিকের বদলি! ‘সার’ চলাকালীন নবান্ন–নির্বাচন কমিশন দ্বন্দ্ব চরমে

না জানিয়ে তিন শীর্ষ আধিকারিকের বদলি! ‘সার’ চলাকালীন নবান্ন–নির্বাচন কমিশন দ্বন্দ্ব চরমে

ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা রাজ্য রাজনীতিতে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের অনুমতি ছাড়া তিন আধিকারিককে বদলি করায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নবান্নের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল।

মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি নির্বাচন কমিশনের

মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করে। কমিশনের নির্দেশ, ‘সার’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তিন আধিকারিকের বদলির নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

আজ বিকেল তিনটের মধ্যে রিপোর্ট চাইল কমিশন

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুধবার বিকেল তিনটের মধ্যে এই বদলি সংক্রান্ত রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না এলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত।

‘কমিশনের নির্দেশ অমান্য’—কড়া ভাষায় আপত্তি

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্র চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘সার’ কার্যকর করার সময়েই রাজ্য প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। সেই নীতি মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।

যে তিন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে

সম্প্রতি রাজ্য সরকার অশ্বিনীকুমার যাদব, রণধীর কুমার এবং স্মিতা পাণ্ডেকে বদলি করে। অথচ এই তিন আইএএস আধিকারিককেই নির্বাচন কমিশন জেলা রোল অবজ়ার্ভারের দায়িত্ব দিয়েছিল।

কোন জেলায় কার দায়িত্ব ছিল

অশ্বিনীকুমার যাদব দায়িত্বে ছিলেন দুই দিনাজপুরে, রণধীর কুমার উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের রোল পর্যবেক্ষক ছিলেন। স্মিতা পাণ্ডের উপর ছিল পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার দায়িত্ব।

বসিরহাট মামলার রেশ এখনও কাটেনি

এই চিঠির মধ্যেই ‘সার’ প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর আগে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এআরও সুমিত্র প্রতীম প্রধানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় কমিশন।

অনুমতি ছাড়া এআরও নিয়োগের অভিযোগ

অভিযোগ, বসিরহাট–২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম কমিশনের অনুমতি না নিয়ে ১১ জন অতিরিক্ত এআরও নিয়োগ করেন এবং স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশ জারি করে তাঁদের দিয়ে হিয়ারিং করান।

রাজ্যের জবাবের দিকেই তাকিয়ে কমিশন

সাসপেনশন নির্দেশের পর রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বদলি বিতর্কে নবান্ন কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই এখন নজর নির্বাচন কমিশনের।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলাকালীন তিন আইএএস আধিকারিককে বদলি করায় ফের রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত প্রকাশ্যে এল। কমিশনের অনুমতি না নিয়েই বদলির অভিযোগ তুলে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Leave a comment