সাইবার প্রতারণার নতুন ফাঁদে পড়ে বিপুল অর্থ খোয়ালেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকরঞ্জন ঠাকুর। জানুয়ারির প্রথম দু’সপ্তাহ ধরে তাঁকে কার্যত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রেখে ভয় দেখিয়ে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা আদায় করেছে প্রতারকরা বলে অভিযোগ।
সাইবার আধিকারিক সেজে ফোন, শুরু ভয় দেখানো
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা নিজেদের ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রাক্তন উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফোনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও সাইবার অপরাধ চক্রের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারের হুমকি
প্রতারকরা অধ্যাপক ঠাকুরকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হতে পারে। এই ভয় দেখিয়েই তাঁকে মানসিক চাপে রাখা হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
সুপ্রিম কোর্টের নামে ভুয়ো নোটিস পাঠানো
ভয় আরও বাড়াতে প্রতারকরা সুপ্রিম কোর্টের নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়ো নোটিস পাঠায়। আইনি নথির মতো দেখতে সেই নোটিস দেখিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়।
এনক্রিপ্টেড অ্যাপে নজরদারি ও স্ক্রিন শেয়ার
অভিযোগ অনুযায়ী, সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত নিজের অবস্থান জানাতে বাধ্য করা হয় প্রাক্তন উপাচার্যকে। এমনকী স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে স্ক্রিন শেয়ার করতেও বলা হয়, যাতে তিনি অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন।
‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে স্থায়ী আমানত ভাঙার নির্দেশ
তদন্তকারীদের দাবি, ‘ভেরিফিকেশন’-এর অজুহাতে অধ্যাপক ঠাকুরকে তাঁর স্থায়ী আমানত ভেঙে দু’টি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আরটিজিএসের মাধ্যমে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তদন্ত শুরু
ঘটনার অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। প্রতারকদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণা বাড়ছে, সতর্কতার বার্তা পুলিশের
পুলিশের বক্তব্য, ভুয়ো আধিকারিক সেজে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। কোনও সরকারি সংস্থা এভাবে ফোনে গ্রেপ্তার বা টাকা চাইতে পারে না—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে মনে রাখতে হবে।
ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। সাইবার ক্রাইম আধিকারিক সেজে ফোন করে ও ভুয়ো সুপ্রিম কোর্ট নোটিস পাঠিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা।











