ডিম প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস এবং স্বাস্থ্যকর প্রাতঃরাশের অপরিহার্য উপাদান। তাই অনেকেই একসঙ্গে অনেক ডিম কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু দিনের পর দিন ফ্রিজে রাখা ডিম আদৌ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ডিমের গুণমান কীভাবে বদলায় এবং কতদিন পর্যন্ত নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়—জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রিজে ডিম কতদিন পর্যন্ত নিরাপদ থাকে?
স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা Healthline-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিম যদি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখা হয়, তাহলে সাধারণত ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই প্যাকেটের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে গেলেও ডিম নষ্ট হয় না, তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানা জরুরি।
পুরনো ডিম মানেই কি নষ্ট?
ডিম পুরনো হলে তার গুণমান বদলাতে পারে। ডিম ভাঙলে দেখা যায়—
কুসুম কিছুটা চ্যাপ্টা
সাদা অংশ তুলনামূলক পাতলা
তবে এর মানে এই নয় যে ডিমটি নষ্ট। এই ধরনের ডিম সম্পূর্ণভাবে রান্না করলে সাধারণত খাওয়া নিরাপদ।
কোন রান্নায় পুরনো ডিম ব্যবহার করা ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো ডিম—
সিদ্ধ ডিম হিসেবে ব্যবহার করলে খোসা সহজে ছাড়ানো যায়
অমলেট, স্ক্র্যাম্বলড এগ
কেক বা বেকড খাবারে (যেখানে ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ হয়)
যে কোনও ক্ষেত্রেই ডিম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রান্না করা বাধ্যতামূলক, যাতে ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি না থাকে।
ডিম খারাপ হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
ডিমের সতেজতা নিয়ে সন্দেহ হলে সহজ একটি পরীক্ষা করুন—
1 একটি পরিষ্কার পাত্রে ডিম ভাঙুন
অস্বাভাবিক রং আছে কিনা দেখুন
তীব্র দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে কিনা লক্ষ্য করুন
যদি দুর্গন্ধ বা রং পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, সঙ্গে সঙ্গে ডিম ফেলে দিন। গন্ধই নষ্ট ডিম চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে কী করবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
ডিম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে চাইলে ফ্রিজারে রাখা যেতে পারে
তবে খোসাসহ নয়
ডিম ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ ভালো করে মিশিয়ে
একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে
এইভাবে ডিম প্রায় এক বছর পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে।
ফ্রিজে ডিম সংরক্ষণ করা কতটা নিরাপদ এবং কতদিন পর্যন্ত তা খাওয়া যায়—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় প্রায় সব বাড়িতেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তাপমাত্রায় রাখলে ডিম সপ্তাহের পর সপ্তাহ খাওয়ার যোগ্য থাকে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম না মানলে বিপদও হতে পারে।













