আমরা যাকে প্রতিদিন ফেলনা ভেবে ফেলে দিই, সেই ডিমের খোসাই যে হতে পারে শিল্পের অনন্য মাধ্যম— তা প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন এক শিল্পী। সূক্ষ্ম কারুকার্য, নিখুঁত জালি কাটিং আর অসীম ধৈর্যের মেলবন্ধনে সাধারণ ডিমের খোসা বদলে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে।
ডিমের খোসায় শিল্প— দেখলে চমকে যাবেন
ডিমের খোসায় এমন সূক্ষ্ম কারুকার্য খুব কমই চোখে পড়ে। শিল্পীর নিপুণ হাতে সাধারণ খোসা বদলে যাচ্ছে ঘর সাজানোর আকর্ষণীয় শোপিসে। এই শিল্পকর্ম দেখলে একবার থমকে তাকাতেই হয়।

বিদেশে জনপ্রিয়, দেশে বিরল এই শিল্প
শিল্পীর কথায়, বিদেশে বিশেষ করে ক্রিসমাসের সময় এই ধরনের ডিমের খোসার শিল্পকর্ম ঘর সাজানো ও জুয়েলারি গিফট বক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ভারতে এখনও এই শিল্প খুব একটা পরিচিত নয়, ফলে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
শিল্পীর হাতেই জন্ম নিচ্ছে নতুন রূপ
শিল্পী গোবিন্দ হাজরা গত কয়েক মাসে প্রায় ১০০টিরও বেশি ডিমের খোসায় জালি কাটিং করে আলাদা মাত্রা দিয়েছেন। পাতলা অথচ ভঙ্গুর খোসাকে ভেঙে না ফেলে এমন নিখুঁতভাবে কাটাই তাঁর দক্ষতার প্রমাণ।
কীভাবে তৈরি হয় এই ডিমের খোসার শিল্প?
এই শিল্পের জন্য মূলত হাঁসের ডিম ব্যবহার করা হয়, কারণ এর খোসা তুলনামূলকভাবে শক্ত।
প্রথমে ডিমের দুই প্রান্তে ছোট ছিদ্র করে ভিতরের অংশ বের করে নেওয়া হয়।
খোসা শুকিয়ে পেন্সিল দিয়ে নকশা আঁকা হয়।
এরপর মাইক্রো ড্রিলের সাহায্যে অত্যন্ত সাবধানে নকশা অনুযায়ী কাটিং করা হয়।
শেষ ধাপে জলে ভিজিয়ে ভিতরের পাতলা আস্তরণ চিমটির সাহায্যে তুলে ফেলা হয়।

ধৈর্য আর হাতের ব্যালেন্সই সাফল্যের চাবিকাঠি
শিল্পী গোবিন্দ হাজরা জানাচ্ছেন, ইচ্ছে থাকলে যে কেউ এই কাজ শিখতে পারেন। তবে ডিমের খোসায় কাজ করতে হলে হাতের ব্যালেন্স ও ধৈর্য অত্যন্ত জরুরি। একটি ডিমে কাটিং করতে সময় লাগে এক থেকে দুই দিন।
শিখতেও পারবেন আগ্রহীরা
শিল্পীর পরামর্শ, প্রথমে পাতলা কাঠের উপর মাইক্রো ড্রিল চালিয়ে অভ্যাস তৈরি করা উচিত। এরপর ধীরে ধীরে ডিমের খোসায় কাজ শুরু করলে দক্ষতা বাড়বে। আগ্রহীদের এই শিল্প শেখাতেও প্রস্তুত তিনি।
ফেলে দেওয়া ডিমের খোসাই হয়ে উঠছে শিল্পের ক্যানভাস। হাঁসের ডিমের খোসায় সূক্ষ্ম জালি কাটিং করে ঘর সাজানোর অনন্য সামগ্রী তৈরি করছেন এক শিল্পী। ধৈর্য, নিখুঁত হাতের ব্যালেন্স আর কৌশলই এই শিল্পের মূল চাবিকাঠি।













