গরমের অপেক্ষা না করেই শীতের বাজারে রাজত্ব করছে লাল জামরুল। ঝকঝকে লাল রং, বড় আকার আর মিষ্টি স্বাদের কারণে উত্তর ২৪ পরগনার বাজারগুলিতে এখন এই ফলই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। সকাল থেকেই বাজারে লাল জামরুল কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শীতের বাজারে অপ্রত্যাশিত ‘হিট’ লাল জামরুল
সাধারণত শীতের শেষে বা গরমের শুরুতে জামরুল বাজারে আসে। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। শীত থাকতেই বাজার মাতাচ্ছে লাল জামরুল। ফল ব্যবসায়ীদের কথায়, লাল জামরুল উঠলেই বিক্রি দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।
সাদা জামরুলকে ছাপিয়ে লাল জাতের দাপট
সাদা জামরুলের তুলনায় লাল জাতের জামরুলের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেশি। কারণ হিসেবে ক্রেতারা জানাচ্ছেন— লাল জামরুল বেশি মিষ্টি, দেখতে আকর্ষণীয় এবং আকারেও বড়। তাই একটু দাম বেশি হলেও ক্রেতারা লাল জামরুলের দিকেই ঝুঁকছেন।
বসিরহাটের মালঞ্চ বাজারে ভিড় চোখে পড়ার মতো
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার মালঞ্চ বাজারে বর্তমানে থাই প্রজাতির লাল জামরুল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি প্রায় ২০০ টাকা দরে। প্রতিদিন সকাল থেকেই বাজারে ভিড় জমছে। বিশেষ করে গৃহিণী ও ফলপ্রেমীদের মধ্যে এই ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

দাম বেশি হলেও পিছপা নন ক্রেতারা
বিক্রেতাদের দাবি, থাই জাতের লাল জামরুল আকারে বড়, খেতে মিষ্টি এবং অনেকদিন টাটকা থাকে। এই কারণেই দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতারা একসঙ্গে একাধিক কেজি কিনে নিচ্ছেন।
স্বাদে যেমন ভালো, পুষ্টিতেও ভরপুর
শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ লাল জামরুল। এতে রয়েছে প্রচুর জল, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গরমের আগে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে এই ফল অত্যন্ত উপকারী।
চিকিৎসকদের পরামর্শ— নিয়মিত খেলে মিলবে উপকার
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত জামরুল খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীর ঠান্ডা রাখতে ও জলের ঘাটতি মেটাতে এই ফল কার্যকর ভূমিকা নেয়।
সাধারণত গরমের ফল হিসেবেই পরিচিত জামরুল, কিন্তু এ বার শীতের মরসুমেই বাজার দখল করেছে লাল জামরুল। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাজারে থাই জাতের লাল জামরুলের চাহিদা তুঙ্গে। স্বাদ, রং ও পুষ্টিগুণ—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এই ফল।













