চাইল্ড মেন্টাল হেলথ: আজকের দিনে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল—এই সমস্যাগুলিকে আমরা অনেক সময় সমস্যাই বলে চিনতে পারি না। বিশেষ করে পরিবারের বড় মেয়েরা, যাঁরা ছোটবেলা থেকেই ‘দায়িত্বশীল’ হওয়ার তকমা পেয়ে যান। এই চাপ থেকেই জন্ম নিচ্ছে তথাকথিত ‘এলডার ডটার সিনড্রোম’।
কী এই ‘এলডার ডটার সিনড্রোম’?
‘এলডার ডটার সিনড্রোম’ বা সংক্ষেপে EDS কোনও স্বীকৃত রোগ নির্ণয়ের নাম না হলেও, এটি একটি গভীর মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে ছোট ভাই–বোনের দেখভাল, সংসারের কাজে সাহায্য, এমনকি মানসিকভাবে বাবা-মায়ের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে শিশুকালেই সে হয়ে ওঠে ‘বড় মানুষ’।
শৈশবের আগেই কাঁধে সংসারের ভার
অনেক পরিবারেই আর্থিক বা সামাজিক চাপে বড় মেয়েটির উপর দায়িত্ব জমতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের আর্থিক দায়িত্ব, ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ গড়ার চাপও এসে পড়ে তার কাঁধে। ফলে অকালেই হারিয়ে যায় শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ।
কীভাবে প্রভাব ফেলে মনে?
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের এই চাপ থেকে তৈরি হয়—
অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ
নিজের প্রয়োজন উপেক্ষা করার প্রবণতা
অপরাধবোধ
সীমা নির্ধারণে অক্ষমতা
উদ্বেগ ও অবসাদের লক্ষণ
এর ফলেই বড় মেয়েরা অনেক সময় খিটখিটে, চুপচাপ বা একাকীত্বে ভোগে।
ভুল অভিভাবকত্বই কি মূল কারণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, EDS-এর অন্যতম প্রধান কারণ হল অজান্তে করা ভুল অভিভাবকত্ব। বাবা-মায়েরা অনেক সময় কাজ সহজ করতে বা বড় সন্তানকে ‘দায়িত্বশীল’ করে তুলতে গিয়ে তার উপর অতিরিক্ত চাপ দেন। অথচ বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব না দিলে এই সমস্যা তৈরি হয়।
গবেষণা কী বলছে?
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের বড় ছেলের তুলনায় বড় মেয়েদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপের হার বেশি। যদিও এটি এখনও আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?
অল্প বয়সেই অতিরিক্ত পরিণত আচরণ
সব সময় অন্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া
নিজের ইচ্ছা বা অনুভূতি প্রকাশে সংকোচ
সহজে বিরক্ত হওয়া
অপরাধবোধে ভোগা
এই লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
বড় মেয়েদের উপর অজান্তেই চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে জন্ম নিচ্ছে এক নীরব মানসিক সমস্যা—‘এলডার ডটার সিনড্রোম’। শৈশব হারানো, অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ, অপরাধবোধ ও একাকীত্ব ধীরে ধীরে তৈরি করছে মানসিক ক্ষত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সচেতন না হলে ভবিষ্যতে অবসাদ ও উদ্বেগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।













