কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ: শীতের মাস মাঘ হলেও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এখন কার্যত বসন্তের পথে। সকাল ও রাতের হালকা ঠান্ডা দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে বেলা বাড়তেই। দিনের তাপমাত্রা ক্রমশ ছুঁচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ফলে আবহাওয়ার এই ঘন ঘন বদলে বাড়ছে শরীর খারাপের ঝুঁকিও।
মাঘের শেষে গরমের দাপট
মাঘ মাস যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম—প্রায় সব জেলাতেই দিনে গরম স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও রোদ উঠলেই বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার মেজাজ।
জঙ্গলমহলেও উষ্ণতার ছাপ
সবুজে ঘেরা জঙ্গলমহল এলাকাও গরমের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে প্রায় ২৬.৯ ডিগ্রি, মেদিনীপুর শহরে তা পৌঁছেছে ২৮ ডিগ্রি। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় দিনের তাপমাত্রা ২৮–২৯ ডিগ্রির কাছাকাছি, যদিও রাতের তাপমাত্রা এখনও ১৩–১৪ ডিগ্রিতে নামছে।
উপকূলেও বাড়ছে পারদ
পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকত শহরগুলিতেও তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। দিঘা, হলদিয়া ও কাঁথিতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রি, রাতের দিকে থাকছে ১৫–১৬ ডিগ্রির আশপাশে। সমুদ্রের হাওয়াতেও আর আগের মতো শীতের আমেজ নেই।
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি
খড়্গপুরের কলাইকুন্ডা, শ্রীনিকেতন কিংবা পুরুলিয়ার মতো জায়গাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩–৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত তাপমাত্রা কমার কোনও সম্ভাবনা নেই।
স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ
দিন-রাতের তাপমাত্রার এই বড় ফারাক শরীরের উপর প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসকদের মতে, সর্দি-কাশি, জ্বর ও ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
মাঘ মাসের শেষদিকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দ্রুত বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা। বেলা বাড়লেই গরম, আবার রাত নামলেই হালকা ঠান্ডা—এই দ্বিচরিত্র আবহাওয়ায় নাজেহাল মানুষ। জঙ্গলমহল থেকে উপকূল—সব জায়গাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা। আগামী সপ্তাহেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।











