বর্ষার শুরুতেই সুন্দরবনের নদীবাঁধে ধস নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের সাহেবখালিতে কালিন্দী নদীর বাঁধের একাংশ ভেঙে পড়ায় নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ চলছে।
বর্ষার বৃষ্টি ও কোটালের চাপে বাঁধে ধস
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং কোটালের সময় নদীর জোয়ারের প্রবল চাপে সাহেবখালি এলাকায় কালিন্দী নদীর বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীতীরবর্তী এলাকায়।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের কাজ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক প্রশাসন ও সেচ দফতর দ্রুত যৌথভাবে সংস্কার অভিযান শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভারী যন্ত্রপাতি ও আর্থ মুভার মেশিনের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ফেলে বাঁধ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। লক্ষ্য একটাই—ভাঙন যাতে আর না বাড়ে এবং নদীর জল কোনওভাবেই জনবসতিতে প্রবেশ করতে না পারে।
অস্থায়ী সুরক্ষায় পলিথিন ও দর্মার ব্যবহার
সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে মাটি ধুয়ে যাওয়া রুখতে বাঁধের গায়ে পলিথিন বিছিয়ে তার উপর দর্মার বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এই অস্থায়ী ব্যবস্থা জোয়ারের জল ও বৃষ্টির ক্ষয় কমাতে সাহায্য করবে বলে প্রশাসনের আশা।
কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি
সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তাঁদের আশা, দ্রুত কাজ শেষ হলে বর্ষাকালে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়। তাই শুধু অস্থায়ী মেরামত নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
কংক্রিটের স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণের দাবি
সুন্দরবনের বাসিন্দাদের মতে, কালিন্দী নদী-সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে কংক্রিটের শক্তিশালী স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করা হলে বারবার ভাঙন, জলবন্দি পরিস্থিতি এবং ফসলের ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নই এই সমস্যার কার্যকর সমাধান বলে মনে করছেন তাঁরা।
টানা বৃষ্টি ও কোটালের জোয়ারের চাপে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সাহেবখালিতে কালিন্দী নদীর বাঁধের একাংশ ভেঙে পড়েছে। নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্লক প্রশাসন ও সেচ দফতর দ্রুত যৌথ উদ্যোগে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।












