বর্ষার প্রথম দফার ভারী বৃষ্টিতেই ফের সামনে এল শহরের জলনিকাশি সমস্যার চেনা ছবি। রাতভর বৃষ্টির পর শুক্রবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক এলাকায় হাঁটুসমান জল জমে যান চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়।
চিনার পার্কে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই চিনার পার্ক এলাকায় জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। এবার টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ভিআইপি রোডের ৪৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে যায়। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলির চাকাও জলের নিচে ডুবে যায়।
বিকল গাড়ি, দীর্ঘ যানজট
জমা জলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি চারচাকা গাড়ি মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। পরে ক্রেন এনে সেটিকে সরাতে হয়। শুধু ওই গাড়িই নয়, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইকের ইঞ্জিনে জল ঢুকে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিআইপি রোডে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক কর্মীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
একাধিক এলাকায় জল জমে নাজেহাল মানুষ
চিনার পার্কের পাশাপাশি কৈখালী, বরানগর-সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন নিচু এলাকাতেও জল জমে যায়। অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষকে হাঁটুসমান জল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত থাকে।
নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বর্ষাতেই একই ধরনের জলজটের সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী নিকাশি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই অল্প সময়ের বৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।
বিমানবন্দরের যাতায়াতেও প্রভাব
ভিআইপি রোড জলমগ্ন হওয়ায় কলকাতা বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যানজটের কারণে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু বিমান পরিষেবাতেও সাময়িক প্রভাব পড়ার খবর মিলেছে।
টানা রাতভর বৃষ্টির জেরে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা জলমগ্ন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক চত্বরে, যেখানে জল জমে বিকল হয়ে পড়েছে একাধিক গাড়ি ও মোটরবাইক। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ, পাশাপাশি বিমানবন্দরের রাস্তাতেও পড়েছে প্রভাব।












