বাড়ি, গাড়ি কিংবা অন্য কোনও প্রয়োজনের জন্য লোন নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল—প্রতি মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে? লোনের পরিমাণ একই থাকলেও মেয়াদ এবং সুদের হার বদলালে EMI-ও পরিবর্তিত হয়। ১ লাখ টাকা লোনের ক্ষেত্রে ৫, ১০, ১৫, ২০ এবং ২৫ বছরের মেয়াদে কত EMI দিতে হতে পারে, তা সহজ হিসাবের মাধ্যমে দেখে নেওয়া যাক।

EMI কী?
EMI-এর পুরো নাম Equated Monthly Installment। বাংলায় একে বলা হয় সমান মাসিক কিস্তি। লোনের মূল টাকা বা Principal এবং তার উপর ধার্য সুদ মিলিয়েই সাধারণত EMI নির্ধারিত হয়।লোনের মেয়াদ যত বেশি হয়, মাসিক EMI সাধারণত তত কমে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সুদ হিসেবে মোট যে টাকা দিতে হয়, তা বেড়ে যেতে পারে।
৭% সুদে ১ লাখ টাকার লোনে কত EMI?
ধরা যাক, আপনি ৭% বার্ষিক সুদের হারে ১ লাখ টাকা লোন নিলেন। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে আনুমানিক মাসিক EMI হবে—
লোনের মেয়াদ মাসিক EMI
৫ বছর ₹১,৯৮০
১০ বছর ₹১,১৬১
১৫ বছর ₹৮৯৯
২০ বছর ₹৭৭৫
২৫ বছর ₹৭০৭
অর্থাৎ ৫ বছরের বদলে ২৫ বছরের মেয়াদ নিলে মাসিক কিস্তির চাপ অনেকটাই কমে যাবে। তবে এর বিনিময়ে দীর্ঘ সময় ধরে সুদ দিতে হবে।

৮% সুদের হারে EMI কত?
একই ১ লাখ টাকা যদি ৮% বার্ষিক সুদের হারে নেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক EMI হবে—
লোনের মেয়াদ মাসিক EMI
৫ বছর ₹২,০২৮
১০ বছর ₹১,২১৩
১৫ বছর ₹৯৫৬
২০ বছর ₹৮৩৬
২৫ বছর ₹৭৭২
সুদের হার ৭% থেকে বেড়ে ৮% হওয়ায় একই মেয়াদে EMI কিছুটা বাড়ছে।
৯% সুদে ১ লাখ টাকার লোন
৯% বার্ষিক সুদের হারে ১ লাখ টাকা লোন নিলে আনুমানিক মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে—
লোনের মেয়াদ মাসিক EMI
৫ বছর ₹২,০৭৬
১০ বছর ₹১,২৬৭
১৫ বছর ₹১,০১৪
২০ বছর ₹৯০০
২৫ বছর ₹৮৩৯
অর্থাৎ সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একই পরিমাণ লোনের জন্য EMI-ও বাড়তে থাকে।
১০% সুদের হারে EMI কত?
১০% বার্ষিক সুদের হারে ১ লাখ টাকা লোন নিলে বিভিন্ন মেয়াদে আনুমানিক EMI হবে—
লোনের মেয়াদ মাসিক EMI
৫ বছর ₹২,১২৫
১০ বছর ₹১,৩২২
১৫ বছর ₹১,০৭৫
২০ বছর ₹৯৬৫
২৫ বছর ₹৯০৯
এই হিসাব অনুযায়ী, ১০% সুদের হারে ১৫ বছরের জন্য ১ লাখ টাকা লোন নিলে প্রতি মাসে প্রায় ₹১,০৭৫ EMI দিতে হবে।
১৫ বছর ও ১০% সুদে সহজ হিসাব
এখানে একটি সহজ নিয়মও মনে রাখতে পারেন। ১৫ বছরের মেয়াদে ১০% সুদের হারে প্রতি ১ লাখ টাকার লোনের EMI প্রায় ₹১,০৭৫।
তাই—
১ লাখ টাকা → ₹১,০৭৫/মাস
২ লাখ টাকা → ₹২,১৫০/মাস
৫ লাখ টাকা → ₹৫,৩৭৫/মাস
১০ লাখ টাকা → ₹১০,৭৫০/মাস
অর্থাৎ একই সুদের হার ও মেয়াদ থাকলে লোনের পরিমাণ যত গুণ হবে, EMI-ও প্রায় তত গুণ হবে।

বেশি মেয়াদে EMI কম, কিন্তু সুদ বেশি
লোনের মেয়াদ বাড়ালে মাসিক কিস্তি কম হওয়ায় অনেকের কাছে তা সুবিধাজনক মনে হতে পারে। কিন্তু এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ চালালে মোট সুদের পরিমাণ সাধারণত বেড়ে যায়।তাই শুধু মাসিক EMI কম দেখেই লোনের মেয়াদ নির্বাচন করা উচিত নয়। নিজের মাসিক আয়, খরচ এবং মোট সুদের বোঝা—সবকিছু বিবেচনা করে মেয়াদ ঠিক করা ভালো।

লোন নেওয়ার আগে মাসে কত টাকা EMI দিতে হবে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। ১ লাখ টাকা লোন নিলে ৫ বছর থেকে ২৫ বছরের বিভিন্ন মেয়াদে EMI-এর পরিমাণ কত হতে পারে, তা নির্ভর করে সুদের হারের উপর। ৭%, ৮%, ৯% এবং ১০% সুদের হারে ১ লাখ টাকার লোনের সম্ভাব্য মাসিক কিস্তির হিসাব জেনে নিন।











