এসেক্সের শিল্পাঞ্চলের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০ দমকলকর্মীর অভিযান, আগুন লাগার কারণের তদন্ত চলছে

ব্রিটেনের এসেমোবাইল হোম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জল সরবরাহের মধ্যেও প্রায় ৬০ জন দমকলকর্মী আগুনের বিস্তার রোধ করেন। পৃথকভাবে গ্রেট হল্যান্ডেও বর্জ্যের স্তূপে আগুন লাগে। উভয় ঘটনার কারণ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটেনের এসেক্স কাউন্টির হাই অঙ্গার (High Ongar) এলাকার একটি শিল্পাঞ্চলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক শিল্প ইউনিট, যানবাহন এবং মোবাইল হোম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে প্রায় ৬০ জন দমকলকর্মী এবং ১২টি ফায়ার ক্রু মোতায়েন করা হয়।

দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১:০০টা (BST) নাগাদ উলমঙ্গার্স লেন (Woolmongers Lane) এলাকার শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করা হয়। তবে দমকলকর্মীদের সীমিত জল সরবরাহের চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়।

এসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস (ECFRS) জানিয়েছে, আগুন প্রথমদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১২টি দমকল দল মোতায়েন করা হয়, যারা কৌশলগতভাবে চারদিক থেকে আগুন ঘিরে তার বিস্তার রোধের চেষ্টা করে। দমকল কর্মকর্তাদের মতে, সীমিত জল সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সমন্বিতভাবে কাজ করে দলগুলো আগুনকে আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সক্ষম হয়।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। সকাল প্রায় ৮:৩০টা পর্যন্ত পাঁচটি দমকল দল ঘটনাস্থলে থেকে হটস্পট পর্যবেক্ষণ এবং আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চালিয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জ্বলতে থাকা অংশে পানি দিয়ে পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা দূর করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর স্টেশন ম্যানেজার কেভ জেনার বলেন, উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান সারাদিন চলতে পারে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এসেক্সের শিল্পাঞ্চলের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০ দমকলকর্মীর অভিযান, আগুন লাগার কারণের তদন্ত চলছে

কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনে একাধিক শিল্প ইউনিট, যানবাহন এবং মোবাইল হোম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করছে। পাশাপাশি আগুন লাগার কারণ এবং এতে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে এসেক্সের গ্রেট হল্যান্ড (Great Holland) এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ল্যাকটন রোডের একটি ইউনিটে রাখা প্রায় ১০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্যে আগুন লাগে। দমকল বিভাগ জানায়, রাত ১১:৫১টায় খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ছয়টি দমকল দল পাঠানো হয়।

গ্রেট হল্যান্ডের ঘটনায় দমকলকর্মীরা সময়মতো আগুন ঘিরে ফেলায় তা আশপাশের কৃষিজমি ও ফসলের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েনি। দমকল বিভাগ কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্ভাব্য বড় ক্ষতি এড়ায়।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে একটি ডিগার (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে পুড়ে যাওয়া বর্জ্য সরিয়ে ভেতরে জ্বলতে থাকা অংশে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। শিল্পাঞ্চলের অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে দীর্ঘ সময় তাপ বজায় থাকায় এ ধরনের পদ্ধতি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।

দুই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। কর্মকর্তারা প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

ধারাবাহিক শিল্পাঞ্চলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের নিয়মিত পরিদর্শন, পর্যাপ্ত জল সরবরাহ, জরুরি নির্গমন পরিকল্পনা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে। দমকল বিভাগও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। সব হটস্পট সম্পূর্ণভাবে নিভে না যাওয়া পর্যন্ত দমকল দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের গুজব এড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

Leave a comment