শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন মহিলা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি গর্ভবতী—এবং তাঁর শরীরও সেই বিশ্বাসকে সমর্থন করে। অথচ চিকিৎসা পরীক্ষায় ধরা পড়ে, গর্ভে কোনও ভ্রূণই নেই। এই বিরল অথচ অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থার নাম সিউডোসিয়েসিস বা মিথ্যা গর্ভাবস্থা। চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি কেবল শারীরিক নয়, গভীর মানসিক অবস্থার প্রতিফলন।
সিউডোসিয়েসিস কী? যখন বিশ্বাসই হয়ে ওঠে উপসর্গ
মিথ্যা গর্ভাবস্থা এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন মহিলা দৃঢ়ভাবে মনে করেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সেই বিশ্বাসের প্রভাবে শরীরে দেখা দেয় গর্ভাবস্থার একাধিক লক্ষণ—যদিও বাস্তবে কোনও গর্ভধারণ ঘটে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মন ও শরীরের জটিল পারস্পরিক সম্পর্কের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
মিথ্যা গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ কী কী?
সিউডোসিয়েসিসের লক্ষণ অনেকটাই আসল গর্ভাবস্থার মতো—
ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া
পেট ধীরে ধীরে বড় হওয়া
স্তনে ব্যথা ও ভারী ভাব
বমি বমি ভাব, ক্লান্তি
ওজন বৃদ্ধি
খুব বিরল ক্ষেত্রে ভ্রূণের নড়াচড়ার অনুভূতি
কখনও কখনও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্তন থেকে দুধ নিঃসৃত হতেও পারে, যা বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
কেন হয় সিউডোসিয়েসিস? লুকিয়ে থাকা মানসিক চাপ
চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ প্রায়শই মানসিক।
বিশেষ করে—
দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্বে ভোগা
বারবার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা
গর্ভধারণ নিয়ে প্রবল সামাজিক বা পারিবারিক চাপ
গভীর মানসিক আঘাত বা একাকিত্ব
এই মানসিক চাপ মস্তিষ্কের হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে শরীরে এমন পরিবর্তন হয়, যা গর্ভাবস্থার মতো লক্ষণ তৈরি করে।
শারীরিক কারণও কি দায়ী?
কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ডিম্বাশয়ের সিস্ট বা জরায়ুর ফাইব্রয়েডের মতো শারীরিক সমস্যাও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য শারীরিক পরীক্ষাও অত্যন্ত জরুরি।
রোগ নির্ণয়ের পর মানসিক প্রভাব
আল্ট্রাসাউন্ড বা রক্ত পরীক্ষায় যখন গর্ভাবস্থার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তখন অনেক মহিলাই ভেঙে পড়েন।
দেখা দিতে পারে—
গভীর শোক
লজ্জা বা অপরাধবোধ
উদ্বেগ ও হতাশা
বিষণ্ণতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সত্যটি কীভাবে জানানো হচ্ছে, সেটাই রোগীর মানসিক সুস্থতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়।
গর্ভে ভ্রূণ নেই, তবু বন্ধ ঋতুচক্র, বড় পেট, বমিভাব—এ কেমন গর্ভাবস্থা? চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় সিউডোসিয়েসিস বা মিথ্যা গর্ভাবস্থা। বিরল হলেও এই সমস্যা বাস্তব এবং গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে। জেনে নিন এর লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি।













