রূপোলি পর্দায় সুপারহিট ছবি বানিয়েছেন তিনি, কিন্তু বাস্তব জীবনের গল্প কোনও সিনেমার চেয়ে কম নাটকীয় নয়। ফারাহ খান—যাঁর প্রেম, বিয়ে এবং পরিবার বলিউডে আজও অনুপ্রেরণা। একই মানুষকে তিনবার বিয়ে করে, তিন সন্তানের মা হয়ে কীভাবে সুখের সংসার গড়লেন এই তারকা পরিচালক?
কোরিওগ্রাফি থেকে পরিচালনা—ফারাহর উত্থানের গল্প
ফারাহ খানের কেরিয়ার শুরু হয় বলিউডের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার হিসেবে। পরবর্তীতে ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘ওম শান্তি ওম’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি পরিচালনা করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন বলিউডের প্রভাবশালী মহিলা পরিচালকদের তালিকায়। টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোতেও বিচারক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান তিনি।
যেখানে ঝগড়া, সেখানেই প্রেমের শুরু
২০০৪ সালে ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবির সেটে সিনেমার এডিটর শিরীষ কুন্দেরের সঙ্গে প্রথম দেখা ফারাহর। প্রথম দিকে তাঁদের সম্পর্ক ছিল টানটান। সৃজনশীল মতবিরোধে প্রায়ই ঝগড়া হত। কিন্তু সেই ঝগড়াই ধীরে ধীরে বদলে যায় বন্ধুত্বে, আর বন্ধুত্ব থেকে গভীর ভালোবাসায়।
অকপট প্রস্তাবেই বদলে যায় গল্প
ফারাহ কখনও ভাবেননি সেটের সেই এডিটর একদিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবেন। এক পার্টিতে শিরীষ সরাসরি নিজের অনুভূতির কথা জানালে প্রথমে অবাক হলেও ফারাহ বুঝতে পারেন, এই মানুষটি তাঁকে সত্যিই গুরুত্ব দেন।
বয়স ও ধর্ম—সব বাধা অতিক্রম
সম্পর্কের পথে ছিল বড় দুই বাধা—শিরীষ ফারাহর থেকে ৯ বছরের ছোট এবং দু’জনের ধর্ম আলাদা। কিন্তু এই পার্থক্য তাঁদের থামাতে পারেনি। তাঁরা প্রমাণ করেন, ভালোবাসার কাছে বয়স আর ধর্ম শুধুই সংখ্যা।
একই মানুষকে তিনবার বিয়ে!
২০০৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফারাহ ও শিরীষ বিয়ে করেন। দুই পরিবারের বিশ্বাস ও আইন মেনে তিনটি পৃথক অনুষ্ঠানে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়—প্রথমে আইনি রেজিস্ট্রেশন, তারপর ইসলামিক নিকাহ এবং শেষে হিন্দু রীতিতে বিবাহ। বলিউডে এই সিদ্ধান্ত আজও ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
তিন সন্তানের মা ফারাহ খান
বিয়ের চার বছর পর, ২০০৮ সালে তাঁদের সংসারে আসে যমজ সন্তানসহ মোট তিন সন্তান। সন্তানদের নাম জার, দিভা ও আনিয়া। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকেই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করেন ফারাহ।
বলিউডে সফল কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক হিসেবে ফারাহ খানের নাম যেমন উজ্জ্বল, তেমনই চর্চিত তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। ৯ বছরের ছোট শিরীষ কুন্দেরকে ভালোবেসে তিনটি ভিন্ন রীতিতে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বয়স ও ধর্মের ব্যবধান পেরিয়ে তাঁদের দাম্পত্য আজও বলিউডের অন্যতম সফল প্রেমকাহিনি।













