প্রতি মাসে ঋতুস্রাব মানেই পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি আর মুড সুইং—অনেক মহিলার কাছেই এই চার-পাঁচ দিন যেন একরকম যুদ্ধ। ব্যথানাশক ছাড়াও কি কোনও প্রাকৃতিক উপায় আছে? আয়ুর্বেদ ও পুষ্টিবিদদের একাংশ বলছেন, দুধ ও খেজুরের সহজ মিশ্রণেই মিলতে পারে স্বস্তি।
মাসিকের সময় কেন বাড়ে দুর্বলতা?
চিকিৎসকদের মতে, ঋতুস্রাবের সময় রক্তক্ষরণের ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলেই ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও তলপেটের ব্যথা বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চললে রক্তাল্পতার ঝুঁকিও থাকে।
খেজুরে কী আছে যা উপকারী?
খেজুরে রয়েছে আয়রন, ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। আয়রন হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে, ম্যাগনেসিয়াম পেশির টান কমাতে সহায়ক এবং ফাইবার হজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে—যা ঋতুস্রাবের সময় বিশেষ প্রয়োজনীয়।
দুধের ভূমিকা কী?
দুধ প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম শুধু হাড় মজবুত করে না, মাসিকের সময় পেশির সংকোচনজনিত ব্যথা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান মানসিক চাপ কমাতে ও ঘুম ভালো করতে সহায়ক।
দুধ ও খেজুর একসঙ্গে খেলে কী লাভ?
আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে শরীরে আয়রনের শোষণ তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। এতে মাসিকের সময় দুর্বলতা, অবসাদ ও মাথা ঘোরার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
৪০-এর পরেও কেন জরুরি এই অভ্যাস?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ৪০ বছরের পর মহিলাদের হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দুধ ও খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে খাবেন, কী মনে রাখবেন?
রাতে ঘুমোনোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে ২–৩টি খেজুর ভিজিয়ে বা কুচি করে খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত জটিলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের যন্ত্রণা, দুর্বলতা ও মেজাজ খারাপ—এই সমস্যায় ভোগেন বহু নারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে শরীর পেতে পারে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের জোগান, যা মাসিকজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।













