ফরিদাবাদে প্রতিটি গ্রামে পাঁচটি নতুন জলাধার ও শহরে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা

তিটি গ্রামে পাঁচটি নতুন জলাধার নির্মাণ এবং শহরের কমিউনিটি সেন্টার ও পার্কে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধি, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং জেলার জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।

ফরিদাবাদে জল সংরক্ষণ জোরদার করতে হরিয়ানা সরকার একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় প্রতিটি গ্রামে পাঁচটি নতুন জলাধার নির্মাণ করা হবে এবং শহরের কমিউনিটি সেন্টার ও পার্কগুলিতে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধি, বৃষ্টির জল আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং ভবিষ্যতে জলসংকট মোকাবিলা করা।

ফরিদাবাদে ক্রমাগত নিম্নমুখী ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বিবেচনায় রেখে সরকার জল সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃষ্টির জল সর্বাধিক পরিমাণে মাটির নিচে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আগামী বছরগুলিতে পানীয় জলের সংকট কমানো যায়। কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানের কাজ বর্ষাকালেই শুরু হবে।

গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি গ্রামে পাঁচটি নতুন জলাধার তৈরি করা হবে। এসব জলাধারে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা হবে, যা ধীরে ধীরে মাটিতে শোষিত হয়ে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, এগুলি সেচ ও অন্যান্য স্থানীয় প্রয়োজনেও ব্যবহার করা যাবে। জলাধারগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

ফরিদাবাদে প্রতিটি গ্রামে পাঁচটি নতুন জলাধার ও শহরে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা

শহুরে এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ৫০টি কমিউনিটি সেন্টার চিহ্নিত করা হচ্ছে, যেখানে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহরের প্রায় ৩০০টি পার্কেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নগর নিগম একজন নোডাল কর্মকর্তা নিয়োগ করবে, যাতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবিষ্যতে এসব ব্যবস্থা অকার্যকর না হয়ে পড়ে।

ফরিদাবাদের একাধিক এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ৫০০ ফুটেরও নিচে নেমে গেছে। জেলায় জল সরবরাহের জন্য নগর নিগমের প্রায় ১,৬৯০টি টিউবওয়েল পরিচালিত হচ্ছে। তবে জলের স্তর কমে যাওয়ায় প্রায় ২০০টি টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে নতুন স্থানে টিউবওয়েল বসাতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় ও সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে পানির চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩৩০ এমএলডি পানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২৮০ এমএলডি। অন্যদিকে, নগর নিগম দুটি সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে ১০০ এমএলডির বেশি জল পরিশোধন করছে, যার মাধ্যমে জলসম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের মতে, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের এই উদ্যোগ শুধু ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও কমাতে সহায়ক হবে। নগর স্থানীয় সংস্থা বিষয়ক মন্ত্রী বিপুল গোয়েলও জল সংরক্ষণকে জনঅংশগ্রহণভিত্তিক অভিযানে পরিণত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে পানি সাশ্রয়কে অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

Leave a comment