মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে লরেন্স বিষ্ণোই ও জগ্গু ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্ক নিয়ে একাধিক দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল যুবক-যুবতী, নাবালক-নাবালিকা এবং নারীদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করে তাদের হত্যা, চাঁদাবাজি এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো।
মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআইয়ের তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে দাবি করা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই ও জগ্গু ভগবানপুরিয়া গ্যাং সদস্য সংগ্রহের জন্য ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল যুবক-যুবতী, নাবালক-নাবালিকা এবং নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। অর্থ, নিরাপত্তা, পরিচিতি এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের গ্যাংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। পরে তাদের হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র সরবরাহ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর আওতায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ভগবানপুরিয়া গ্যাং ভারতে হত্যার মতো অপরাধ সংঘটনের জন্য কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ২০ হাজার রুপি পর্যন্ত অর্থ প্রদান করত।
![]()
তদন্ত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেটওয়ার্ক শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপেও অপরাধমূলক কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এতে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বস্ত সদস্যদের কথিতভাবে ভুয়া ছাত্র বা কর্মসংস্থান ভিসার ব্যবস্থা করে বিদেশে পাঠানো হতো, যেখানে তাদের গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হতো।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গোল্ডি ব্রার উত্তর আমেরিকায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন, আর রোহিত গোদারা ইউরোপে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গ্যাংটি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন, মেথামফেটামিন এবং হেরোইন পাচার, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের কাছ থেকে মাদকের চালান ছিনতাই এবং সেই আয় ভারতে পাঠানোর মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিল।
নথিতে জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও একাধিক দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার সহযোগী মনদীপ কৌর ওরফে চিমাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া, এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্যাংস্টারদের সঙ্গে মিলে বিদেশে বসবাসকারী একটি পরিবারের কাছ থেকে কথিত চাঁদা আদায়ের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ্যে সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, কানাডার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ফিনট্র্যাক (FINTRAC) এর আগে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিল, আর্থিকভাবে দুর্বল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে এবং প্রলোভন দিয়ে সহিংস অপরাধে জড়িত করা হচ্ছে। পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিচালক গৌরব যাদবও বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত গ্যাংস্টাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তার মতে, কম শিক্ষিত, বেকার এবং মাদকাসক্ত তরুণরা সহজেই এ ধরনের অপরাধচক্রের ফাঁদে পড়ে। এ কারণে পুলিশ তরুণদের সচেতন করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে তারা অপরাধী নেটওয়ার্কের প্রলোভনে না পড়ে।










