বর্তমান সময়ে ফ্যাটি লিভার রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও উপসর্গ না থাকায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই সমস্যা লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের মতো গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে কয়েকটি পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
![]()
ফ্যাটি লিভার কী?
ফ্যাটি লিভার এমন একটি অবস্থা, যেখানে যকৃতের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। এটি সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে—মেটাবলিক অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD): স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও বিপাকজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।অ্যালকোহল-সম্পর্কিত লিভার ডিজিজ (ALD): দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে হয়।প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি নীরব থাকলেও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, কোন ৩টি ‘সাদা’ খাবার কমাতে হবে?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এস. এ. মল্লিক-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে তিন ধরনের পরিশোধিত বা ‘সাদা’ খাবার যতটা সম্ভব সীমিত রাখা উচিত।
ময়দা
ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি, নান, বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, পিজ়া ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে, যা লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিনি ও মিষ্টি
অতিরিক্ত চিনি, সফট ড্রিংক, মিষ্টি ও ডেজ়ার্ট নিয়মিত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও ক্যালোরি প্রবেশ করে। এর ফলে লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত সাদা ভাত
ভাত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরামর্শ না থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খাওয়া রক্তে শর্করার ওঠানামা বাড়াতে পারে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
![]()
কোন খাবার বেশি খাওয়া উচিত?
লিভার সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন—
ওটস
মিলেট বা শস্যজাত খাবার
আটার তৈরি খাবার
ডালিয়া
ডাল
বাদাম ও বিভিন্ন বীজ
শাকসবজি
মৌসুমি ফল
পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
এই ধরনের খাবারে ফাইবার বেশি থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
শুধু ডায়েট নয়, জীবনযাপনেও বদল জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই হবে না। পাশাপাশি—
প্রতিদিন অন্তত ২ কিলোমিটারের বেশি হাঁটার চেষ্টা করুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমান।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমান।
অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
![]()
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও জোর
যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দীর্ঘমেয়াদি অসুখগুলির সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
![]()
ফ্যাটি লিভার এখন অন্যতম সাধারণ লাইফস্টাইল রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ময়দা, চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে বা রিভার্স করা সম্ভব।








