মাছ ছাড়া বাঙালির খাবারের থালা যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু সুস্বাদু মাছ খেতে গিয়েই অনেক সময় ঘটে বিপত্তি—গলায় আটকে যায় কাঁটা। আচমকা এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট মাছের কাঁটা কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়েই বেরিয়ে যেতে পারে। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
![]()
প্রথমেই বুঝে নিন কাঁটা কোথায় আটকে আছে
গলায় কাঁটা আটকে গেলে প্রথম কাজ হল আতঙ্কিত না হওয়া। চিকিৎসকদের মতে, যদি কাঁটাটি মুখের ভিতরে বা গলার উপরের অংশে দেখা যায়, তাহলে পরিষ্কার হাত বা ছোট চিমটির সাহায্যে সতর্কভাবে।
লেবুর রসেই মিলতে পারে আরাম
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড মাছের কাঁটাকে কিছুটা নরম করতে সাহায্য করে। তাই সামান্য লেবুর রস খেলে বা লেবু চুষলে অনেক সময় কাঁটা নিচে নেমে যায়। এই পদ্ধতি ঘরোয়া হলেও বেশ কার্যকর বলেই মত চিকিৎসকদের।
![]()
ভাতের দলা গেলার পুরনো টোটকাও কাজে দেয়
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে এখনও অনেকেই ভরসা রাখেন পুরনো ঘরোয়া উপায়ের উপর। বাড়ির বড়দের পরামর্শ মেনে নরম ভাতের ছোট দলা একবারে গিলে ফেললে অনেক সময় খাবারের সঙ্গে কাঁটাটিও নিচে নেমে যায়। এই পদ্ধতি বহু ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি দিলেও চিকিৎসকদের মতে, এতে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ খুব বড় ভাতের দলা গিলে ফেললে উল্টে শ্বাসরোধ বা গলায় আরও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কাঁটা না নামলে বা ব্যথা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
![]()
কাশি ও জলেও হতে পারে সমাধান
অনেক সময় কাঁটা টনসিলের আশেপাশে আটকে থাকে। সে ক্ষেত্রে কয়েকবার জোরে কাশি দিলে কাঁটা বেরিয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি অল্প অল্প করে জল পান করলেও ঢোক গেলার সঙ্গে কাঁটা নিচে সরে যেতে পারে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চিকিৎসক Aniruddha Biswas জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ছোট কাঁটা ঘরোয়া উপায়ে সরে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে বিপদ বাড়তে পারে। যদি তীব্র ব্যথা হয়, রক্তপাত দেখা যায়, শ্বাস নিতে সমস্যা হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে কাঁটা আটকে থাকে, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। নিজে থেকে সূচ, পিন বা ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টা একেবারেই উচিত নয়।
![]()
মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া বাঙালির খুব পরিচিত সমস্যা। তবে ভয় না পেয়ে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব। লেবুর রস, নরম ভাত বা কাশি—এই সাধারণ পদ্ধতিগুলিই কার্যকর হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।








