হাঁচি, কাশি, হাসি কিংবা সামান্য হাঁটাচলাতেই অজান্তে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া—মধ্যবয়সী ও প্রবীণ মহিলাদের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত সমস্যা। অনেকেই এটিকে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে মনে করলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এটি অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। বিশেষ করে কিছু খাবার ও পানীয় মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করে এই সমস্যার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন বাড়ে প্রস্রাব লিকের সমস্যা?
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে। মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মূত্রাশয় ও মূত্রনালির টিস্যু দুর্বল হতে শুরু করে। পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোরের পেশি আগের তুলনায় কম শক্তিশালী হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হ্রাস পায়।এছাড়াও অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ধূমপান, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) এবং কিছু ওষুধও এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রস্রাব লিকের সমস্যা বাড়াতে পারে যে ৬ খাবার
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
কফি, চা, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং অতিরিক্ত চকোলেটে থাকা ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ ও তাগিদ দুটোই বেড়ে যায়।
অ্যালকোহল
মদ্যপান শরীরে জলশূন্যতা তৈরি করার পাশাপাশি মূত্রাশয়ের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। এতে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হতে পারে।
কার্বোনেটেড পানীয়
সফট ড্রিঙ্ক, সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটারের গ্যাস ও কার্বন ডাই-অক্সাইড মূত্রাশয়ের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত টক খাবার
কমলা, লেবু, লাইম, টমেটোসহ অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার সংবেদনশীল মূত্রাশয়ে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। ফলে প্রস্রাবের তাগিদ বেড়ে যেতে পারে।
ঝাল খাবার
অতিরিক্ত মরিচ, ঝাল কারি কিংবা হট সস মূত্রাশয়ের ভিতরের অংশে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এতে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত খাবার
অ্যাসপার্টেম, স্যাকারিনের মতো কৃত্রিম মিষ্টি থাকা ডায়েট পানীয় ও সুগার-ফ্রি খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করে সমস্যাকে তীব্র করতে পারে।
কী ধরনের প্রস্রাব লিক হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাব লিকের কয়েকটি সাধারণ ধরন রয়েছে—
স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স: কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী জিনিস তোলার সময় প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া।
আর্জ ইনকন্টিনেন্স: হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ অনুভব করে ধরে রাখতে না পারা।
ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স: মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি না হওয়ায় বারবার প্রস্রাব লিক হওয়া।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
যদি প্রস্রাব লিকের কারণে ঘুম, দৈনন্দিন কাজকর্ম বা সামাজিক জীবনে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে ইউরোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে ওষুধ, পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
৫০ বছরের পর বহু মহিলার মধ্যেই প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, শুধু বয়স বা মেনোপজ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোন ৬ ধরনের খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, জেনে নিন বিস্তারিত।













